মেক্সিকো সিটির আকাশে তখন ঝরছিল মুষলধারে বৃষ্টি। শেষ মুহূর্তে কর্নার পেয়েছিল পুমাস ইউএনএএম। যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে গোল করে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিলেন অ্যারন রামসি। আতলাসের বিপক্ষে গোলশূন্য ম্যাচে হঠাৎই লিখলেন জয়গাথা—১–০!
এটা ছিল সোমবার রাত। তিন দিন পর, বৃহস্পতিবার সকালেই ইতালি থেকে এল শোক সংবাদ—মিলানে নিজ বাড়িতে ৯১ বছর বয়সে মারা গেলেন জর্জিও আরমানি, বিশ্ব ফ্যাশনের কিংবদন্তি, আরমানি ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা।
মেক্সিকান ক্লাব পুমাসে নাম লেখানো রামসির প্রথম গোল আরমানির মৃত্যুর সংবাদ—এই কাকতালীয় মিল আবার ফিরিয়ে আনল সেই পুরোনো গল্প, যেটা ফুটবলভক্তরা বলেন—‘রামসি অভিশাপ।’

আর্সেনালে দীর্ঘ সময় খেলেছেন, জুভেন্টাসে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সতীর্থ হয়ে উঠেছেন, আর এখন মেক্সিকোতে পুমাসের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন— তবে, ওয়েলসের এই মিডফিল্ডারকে বিশ্ব ফুটবল তাঁর দক্ষতার চেয়ে, মাঠের বাইরের আরেক পরিচয় দিয়ে মনে রাখে। বলা হয়, তিনি গোল করলেই অল্প সময়ের মধ্যে মারা যান কোনো বিখ্যাত মানুষ!
২০২৩ সালে কার্ডিফ সিটির হয়ে গোল করেন। সেবার কারও মৃত্যু না ঘটায় বলাবলি হচ্ছিল অভিশাপের অধ্যায় হয়তো শেষ। কিন্তু পুমাসের হয়ে প্রথম গোলের পরপরই আরমানির প্রয়ান, এই কাকতালীয় মিলটাকে আবারও জীবন্ত করে তুলল।
২০১১ সালের মে মাস। প্রিমিয়ার লিগে রামসির গোলে আর্সেনাল হারাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। পরদিনই পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন সেনার হাতে নিহত হলেন ওসামা বিন লাদেন। এখান থেকেই শুরু হল ‘রামসি অভিশাপ’-এর গল্প।

এরপর একে একে নাম জুড়ল বিশ্বের বড় বড় তারকার—অ্যাপলের স্টিভ জবস, লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি, আর্জেন্টিনার হোর্হে রাফায়েল ভিদেলা, অভিনেতা পল ওয়াকার, রবিন উইলিয়ামস, এদুয়ার্দো গালেয়ানো, ডেভিড বোয়ি, রজার মুর, অলিভিয়া নিউটন–জন, আর এবার ফ্যাশনের মহারথী জর্জিও আরমানি।
এমনভাবে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন এখন পর্যন্ত ২২ জন খ্যাতিমান ব্যক্তি। রামসি এখন পর্যন্ত ক্লাব ফুটবলে করেছেন ৭৮ গোল, ওয়েলসের হয়ে গোল ২১টি।
প্রতিবার গোলের পর ভক্তদের মনে শিহরণ—খুশি, আবার ভয়ের ছায়া। আরমানির মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখেছেন, ‘শান্তিতে ঘুমান, জর্জিও আরমানি। ২০২৫ সালে আপনি রামসি অভিশাপের প্রথম শিকার।’











