মাশরাফি বিন মর্তুজা আজ নেই কোনো খবরে। ক্রিকেটই খেলেন না তিনি। তামিম ইকবাল অবসরে গেছেন সব ফরম্যাট থেকে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও বিদায় বলে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে।
মুশফিকুর রহিম রঙিন পোশাকে খেলেন না, টেস্টেও তিনি শেষের দুয়ারে পৌঁছে গেছেন। সাকিব আল হাসান টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন, ওয়ানডে ক্রিকেটও যে খেলবেন ভবিষ্যতে সেই সুযোগ নেই।

পঞ্চপাণ্ডব বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই ছিল এই পাঁচ নামের সম্মিলন। তারা ছিলেন স্বপ্নের কারিগর, অসম্ভবকে সম্ভব করার সাহসী যোদ্ধা। একে একে সেই মহারথীরা এখন ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অনেক দূরে। দেশের জার্সিতে একসঙ্গে লিখেছেন অগণিত বিজয়ের গল্প, খেলেছেন ২২০’র বেশি ওয়ানডে — এবার তারা বিদায় নিলেন। একে একে নিভে গেল এক প্রজন্মের দীপ্ত জ্যোতি।
মাশরাফি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। শুধুমাত্র একজন পেসার নয়, তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার জ্বলজ্বলে নিদর্শন। এক পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া সত্ত্বেও লড়ে গেছেন, লড়তে শিখিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ প্রথমবার বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে।

তামিম ইকবাল বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপ্লবের অন্যতম নায়ক ছিলেন। দেশকে এনে দিয়েছেন বহু ঐতিহাসিক জয়, ওপেনিংয়ে এনে দিয়েছেন প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা। তার ব্যাটে ভর করেই দল শিখেছে ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের মানে।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ম্যাচ ফিনিশারদের একজন ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বিশ্বকাপের মঞ্চে পরপর দুই সেঞ্চুরি করে নতুন ইতিহাস গড়েছিলেন, অসংখ্যবার দলকে টেনে তুলেছেন সংকট থেকে।

মুশফিকুর রহিম ব্যাটের চেয়ে বেশি খেলতেন হৃদয় দিয়ে। তিনি ছিলেন এক অক্লান্ত যোদ্ধা। উইকেটের পেছনে নিখুঁত গ্লাভসের জাদু, ব্যাট হাতে নির্ভরতার প্রতীক। কঠিন মুহূর্তে বারবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বাদ থাকলেন সাকিব আল হাসান। নি:সন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা তিনি। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, যিনি একাই বদলে দিতে পারতেন ম্যাচের গতিপথ। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই ছিলেন অতুলনীয়। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন তিনি আজও।

এই পাঁচজন ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল প্রজন্মের প্রতিনিধি। ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল, ২০১৮ ও ২০১৯ এশিয়া কাপের ফাইনাল—বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতিটি বড় সাফল্যের পেছনে ছিলেন এই পাঁচ গ্রেট।
তাঁদের হাত ধরেই বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটের ছোট দল থেকে পরিণত হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক শক্তিতে। তারা ছিলেন স্বপ্নের সারথি, সাফল্যের স্তম্ভ। আজ তাদের প্রস্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট এক মহাযুগের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু, বিদায় মানেই শেষ নয়। তারা হয়তো আর মাঠে থাকবেন না, কিন্তু তাদের তৈরি করে দেওয়া পথ ধরেই এগিয়ে যাবে নতুন প্রজন্ম।











