এশিয়া কাপে সেই ভারত-পাকিস্তান মহারণ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দ্বৈরথ বলে কথা। বাড়তি চাপ তো তাই থাকবেই। সেই চাপ ছুঁয়ে গিয়েছিল তিলক ভার্মাকে। নিজেই স্বীকার করেছেন, ফাইনাল মঞ্চে নামার আগে ভীষণ নার্ভাস ছিলেন তিনি।
দুবাইয়ের আকাশে তখন চাপা উত্তেজনা। আগের দুই লড়াইয়ে ভারত জিতেছে ঠিকই, কিন্তু ফাইনাল মানেই আলাদা গল্প। লক্ষ্য মাত্র ১৪৭—কাগজে-কলমে সহজ। কিন্তু ক্রিকেট তো সংখ্যার খেলা নয়, স্নায়ুরও খেলা। আর সেই স্নায়ু পরীক্ষায় প্রথমে ধাক্কা খেল ভারত। স্কোরবোর্ডে ২০ রান তুলতেই নেই ভারতের তিন উইকেট। হঠাৎই নিস্তব্ধ পুরো ডাগআউট।
সেই সময়ই নামেন তিলক ভার্মা। আইপিএলের তারকা, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পরীক্ষিত সৈনিক, তবু পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনাল, সেটি অন্যরকম চাপ। পরে নিজেই স্বীকার করেছেন, ব্যাট হাতে নামার আগেই ঘামছিলেন তিনি।

জিকিউ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে তিলক বলেন, ‘ব্যাট করতে নামার আগেই আমি ঘামছিলাম। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচ আমরা জিতেছিলাম, সবাই ভাবছিল আবার সহজেই জিতব। কিন্তু এটা দুবাই, এটা ফাইনাল, আর প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ওদের বোলিং আক্রমণ ছিল দুর্দান্ত। আমার মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরছিল, এই ম্যাচ আমরা হারতে পারি না।’
পরের সময়টাতে তিলক খেলেন নিজের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। নামের পাশে ৫৩ বলে ৬৯ রান, ওটাই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য, ভারতকে পৌঁছে দেয় জয়ের বন্দরে। এই ইনিংসটা তাই সোনার ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতোই।
অবশ্য এমন ইনিংস তাঁর অনেক আছে। আইপিএলে চাপের মুহূর্তে অনেক ম্যাচই বের করে এনেছেন একা হাতে। এই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগিয়েছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। এ নিয়ে তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি এটা করে আসছি। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়েও করেছি। চাপে খেলে নিজের নাম তৈরি করেছি। আমি নিজেকে বলছিলাম, যাই হোক, দেশের জন্য ম্যাচটা আমিই জিতব।’

Share via:











