বোলারদের সামনে কতজনই তো দাঁড়ান, তবে বিপ্লবী পাওয়া যায় কতজন? কালেভদ্রে কেউ আসে সময়ের নিয়মকে উপেক্ষা করে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ট্রাভিস হেড তেমনই এক নাম। টেস্ট ব্যাটিংকে ভিন্ন আঙ্গিকে রূপ দেওয়ার কারিগর। অ্যাশেজে তিন সেঞ্চুরি, দ্রুততম ১৫০ পার করার কীর্তি, এ যে সেই বদলে দেওয়া বিপ্লবেরই এক উপাখ্যান।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডটাও এবার দখলে নিলেন তিনি। ইংল্যান্ড হতবাক চোখে কেবল চেয়ে দেখল ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার অপ্রতিরোধ্য হেডকে। ইংলিশদের শাসন করে চলছেন পুরো অ্যাশেজ জুড়েই। কিছুটা টানাপোড়েনে থাকা ফর্মকে আবারও উজ্জীবিত করে বোঝালেন, গ্রেটরা সময়মতো জ্বলে ওঠে। শুধু কি ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করলেন হেড? তিনি ইতিহাসের পাতাতেও লিখে ফেললেন নিজের নামটা, তাও আবার ডন ব্র্যাডম্যানের ৯৬ বছরের পুরনো কীর্তি ভেঙে।
১৬৬ বলে ১৬৩ রানের অতিমানবীয় এক নক। ইনিংসজুড়ে ছিল ২৪টি চার আর একটি ছক্কার মার। এই ইনিংসেই তিনি অ্যাশেজ ইতিহাসে যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম দেড়শ’ রানের মালিক হন, যা আসে ১৫২ বলে। এতেই ১৯৩০ সালে লর্ডসে ১৬৬ বলে দেড়শ’ করা কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যানকে ছাড়িয়ে যান হেড।

এই কীর্তির মাধ্যমে আরও একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। অ্যাশেজের দ্রুততম দেড়শ’ রানের তালিকায় দু’বার জায়গা করে নেওয়া একমাত্র ব্যাটার এখন তিনি। এর আগে ২০২১ সালে ব্রিসবেনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ১৪৩ বলে দেড়শ’ রান করেছিলেন।
এই সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে আরও একটি মাইলফলক ছুঁয়েছেন ট্রাভিস হেড। ২০০২-০৩ অ্যাশেজে ম্যাথিউ হেইডেনের পর ঘরের মাঠে অ্যাশেজে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা অস্ট্রেলীয় ওপেনার এখন তিনিই। সিডনির এই শতক ছিল হেডের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম এবং এসসিজিতে প্রথম।
একটা ম্যাচ দিয়ে সবকিছু নিজের করে নিলেন যেন। ইংল্যান্ডকে রুখে দেওয়ার বীজমন্ত্র যপে গেলেন এই ইনিংস দিয়ে। টেস্ট ক্রিকেটকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছেন তিনি, শাসন করতে গেলে যে কায়দা করে চলতে হয়।

Share via:











