ফ্রম হেভেন টু হেল

এই লিগের আয়োজক হিসেবে নাম ছিল ইউভা সোসাইটি নামের এক বেসরকারি সংস্থার, যারা দাবি করেছিল, তারা জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আয়োজন করছে। কিন্তু জে-কে স্পোর্টস কাউন্সিল জানিয়েছে, তারা কেবল মাঠ ও নিরাপত্তার অনুমতি দিয়েছে—লিগের সঙ্গে সরকারের কোনো প্রত্যক্ষ যোগ ছিল না।

এক রাতের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ। পালিয়ে গেলেন আয়োজকরা। সেটাও আবার খোদ ভারতে। জম্মু-কাশ্মীরে ঢাকঢোল পিটিয়ে আয়োজনের অপেক্ষায় ছিল ইন্ডিয়ান হেভেন প্রিমিয়ার লিগ (আইএইচপিএল)। কিন্তু, সেই স্বপ্ন দু:স্বপ্নে পরিণত হল।

আয়োজনের জাঁকজমক ছিল আকাশচুম্বী, কিন্তু সমাপ্তি যেন থ্রিলার সিনেমার থেকেও অবিশ্বাস্য। শনিবার মধ্যরাতে আয়োজকেরা হঠাৎ করেই শ্রীনগর ছেড়ে পালিয়ে যান, রেখে যান বকেয়া হোটেল বিল। পারিশ্রমিক না হয়ে হতভম্ব বনে যান এক দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

রবিবার সকালেই শ্রীনগরের বখশি স্টেডিয়াম  ফাঁকা দাঁড়িয়ে ছিল। আর প্রায় ৪০ জন খেলোয়াড় রয়ে গেছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে—যাদের অনেকেই এখনও টাকাপয়সা পাননি, এমনকি দেশে ফেরার ব্যবস্থাও রাখা হয়নি।

এই লিগের আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক তারকাদের অংশগ্রহণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল, নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল, নিউজিল্যান্ডেরই জেসি রাইডার আর শ্রীলঙ্কার থিসারা পেরেরা—সবাই ছিলেন এই টুর্নামেন্টের কেন্দ্রবিন্দুতে।

আসার কথা ছিল বাংলাদেশের সাকিব আল হাসোনেরও।  গেইলসহ অনেক বিদেশি খেলোয়াড় আগেভাগেই শ্রীনগর ত্যাগ করলেও বাকিদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা। আয়োজকেরা কোনো বিল পরিশোধ না করেই হোটেল ছেড়ে পালিয়ে যান।

ইংল্যান্ডের আম্পায়ার মেলিসা জুনিপার বলেন, ‘আয়োজকেরা হোটেল থেকে পালিয়ে গেছেন। খেলোয়াড়, আম্পায়ার, এমনকি হোটেলকেও কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। আমরা হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে খেলোয়াড়দের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছি। এমন আচরণ অত্যন্ত অন্যায়।’

শ্রীনগরের দ্য রেসিডেন্সি হোটেলের এক কর্মকর্তা জানান, শুরুতে আয়োজনটা ছিল রাজকীয়। আয়োজকেরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—ক্রিস গেইলের মতো তারকার উপস্থিতিতে কাশ্মীরের পর্যটনে নতুন দিগন্ত খুলবে। তবে, সব ভেস্তে যায়। তিনি বলেন, ‘রবিবার সকালে দেখি, সবাই গায়েব। হোটেলের বিল বাকি, অফিসারদের ফোন বন্ধ। গেইল অবশ্য শনিবারই চেকআউট করেছিলেন।’

স্থানীয় ক্রিকেটার পারভেজ রাসুল জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, একজন ইংরেজ আম্পায়ারকে তার ফেরার অনুমতির জন্য ব্রিটিশ দূতাবাসে ফোন করতে হয়েছিল। কিছু খেলোয়াড়কে প্রথমে হোটেল ছেড়ে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না, পরে দীর্ঘ আলোচনার পর সমস্যা মেটে।

একজন স্থানীয় খেলোয়াড় বলেন, ‘লিগের শুরু থেকেই বিশৃঙ্খলা চলছিল। প্রথম দিন কোনো জার্সি ছিল না, পরে স্থানীয় দোকান থেকে কিনে আনা হয়। স্পন্সররা সম্ভবত শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গিয়েছিলেন, আর দর্শক উপস্থিতিও ছিল খুবই কম। কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তিও সই করানো হয়নি।’

এই লিগের আয়োজক হিসেবে নাম ছিল ইউভা সোসাইটি নামের এক বেসরকারি সংস্থার, যারা দাবি করেছিল, তারা জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আয়োজন করছে। কিন্তু জে-কে স্পোর্টস কাউন্সিল জানিয়েছে, তারা কেবল মাঠ ও নিরাপত্তার অনুমতি দিয়েছে—লিগের সঙ্গে সরকারের কোনো প্রত্যক্ষ যোগ ছিল না। আর রবিবার সকালে সব শেষ হয়ে গেল, এক রাতেই হারিয়ে গেল ইন্ডিয়ান হেভেন প্রিমিয়ার লিগ।

Share via
Copy link