শচীনকে ছাড়িয়ে ভারতের জার্সিতে বৈভবের অভিষেক!

একটা অভিষেক, আর তাতেই ভেঙে গেল ৩৬ বছরের অপেক্ষা। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের নীল জার্সি গায়ে চাপিয়ে ইতিহাস লিখলেন বৈভব সূর্যবংশী।

একটা অভিষেক, আর তাতেই ভেঙে গেল ৩৬ বছরের অপেক্ষা। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের নীল জার্সি গায়ে চাপিয়ে ইতিহাস লিখলেন বৈভব সুরিয়াভানশি। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি হয়ে গেলেন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, ভেঙে দিলেন ১৯৮৯ সালে ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে অভিষেক করা শচীন টেন্ডুলকারের দীর্ঘদিনের রেকর্ড।

বিহারের সমস্তিপুর জেলার তাজপুরে ২০১১ সালে জন্ম নেওয়া বৈভবের গল্প যেন রূপকথাকেও হার মানায়। ১২ বছর ২৮৪ দিন বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক, এরপর ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুব টেস্টে মাত্র ৫৮ বলে শতক হাঁকিয়ে তিনি প্রথমবার জাতীয় আলোচনায় উঠে আসেন।

এরপর শুরু হয় আইপিএলের বিস্ময়যাত্রা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে চুক্তি, ১৪ বছর বয়সে আইপিএল অভিষেক, আর প্রথম বলেই ছক্কা। কয়েক দিনের মধ্যেই ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে আইপিএল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হন তিনি। তবে ২০২৬ মৌসুমেই বৈভব নিজেকে নিয়ে যান অন্য উচ্চতায়।

১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান, স্ট্রাইক রেট ২৩০, সঙ্গে রেকর্ড ৭২ ছক্কা। এক মৌসুমে অরেঞ্জ ক্যাপ, মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার এবং এমার্জিং প্লেয়ারের মতো তিনটি পুরস্কার একসঙ্গে জেতা আইপিএলের প্রথম ক্রিকেটারও তিনিই। তাঁর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় রাজস্থান রয়্যালস।

জাতীয় দলের দরজা খোলার আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের ছাপ রাখেন বৈভব। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতকে শিরোপা জেতান এবং হন টুর্নামেন্টসেরা।

এরপর ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজেও ব্যাট হাতে ছিলেন সমান উজ্জ্বল। পাঁচ ম্যাচে ২১১ রান, ফাইনালে মাত্র ২৯ বলে ৯৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেন অনায়াসে।

এরই ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে ১০ বলে ১৪ রানের ইনিংস খেলেন বৈভব। হাঁকান দুটি ছক্কা। খুব বড় কিছু না হলেও এটা যে বার্তা দিয়ে রাখল, ‘বৈভব এসেছে বোলারদের ঘুম হারাম করতে।’

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link