সূর্যের প্রথম আলো, বিপ্লবের প্রথম সকাল

তিনি আসবেন, জানা ছিল তা। পনেরো বছরের এক সঞ্জীবনী সুধা, এক দুরন্ত তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, ঝঞ্ঝা আর ঝড় বুকে নিয়ে তিনি আসবেন। জয়পুর থেকে ওল্ড ট্রাফোর্ড অপেক্ষায় ছিল সবাই, সমর্থক, প্রতিপক্ষ, নিরপেক্ষ দর্শক।

তিনি আসবেন, জানা ছিল তা। পনেরো বছরের এক সঞ্জীবনী সুধা, এক দুরন্ত তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, ঝঞ্ঝা আর ঝড় বুকে নিয়ে তিনি আসবেন। জয়পুর থেকে ওল্ড ট্রাফোর্ড অপেক্ষায় ছিল সবাই, সমর্থক, প্রতিপক্ষ, নিরপেক্ষ দর্শক। যেমন দিগন্তে সূর্য ওঠার আগেই আলো বুঝে ফেলা যায়, তেমনই সবাই জানতেন, বৈভব সুরিয়াভানশি নামের এক কিশোর খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজায় কড়া নাড়বে।

স্বাভাবিক গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। অপেক্ষাকৃত দুর্বল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গতি-প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতেন। তারপর ধীরে ধীরে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তিদের সামনে দাঁড়াতেন।

কিন্তু নামটা তো বৈভব সুরিয়াভানশি। ছোট দলের বিপক্ষে নিজেকে প্রস্তুত করে বড় দলের সামনে যাওয়ার গল্প, সুরিয়া নামের সাথে যায় কই! তিনি যেন প্রথম সূর্যের আলোই ফেলতে চেয়েছেন সবচেয়ে উঁচু পর্বতের চূড়ায়।

আয়ারল্যান্ড সিরিজটা ডাগআউটে বসেই কেটে গেল। ইংল্যান্ড সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও একাদশে জায়গা হলো না। অথচ মাঠের বাইরের গল্পটা তখন অন্যরকম। ইংল্যান্ডের সমর্থক থেকে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমী নিরপেক্ষ দর্শক, সবাই এক সুরে বলতে শুরু করেছে, দেখতে চাই পনেরো বছরের সেই ছেলেটাকে। ভারতের সমর্থকেরা তো চেয়েছেনই।

অবশেষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি, মুহূর্তটা এলো। ভারতের ইতিহাসের সর্ব কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক অভিষেক। প্রথম দিকের কয়েকটি বলেই বোঝা গেল, ছেলেটা কেবল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামেনি; সে এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভাষাটাই বদলে দিতে। জোফরা আর্চারের গতির সামনে দাঁড়িয়ে স্কুপ, ফাইন লেগের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল বল, সীমানার বাইরে।

একটা প্রজন্মের ঘোষণা, এক ব্যাটিং দর্শনের ঘোষণা। যেখানে ভয় নয়, সাহসই হবে প্রথম ভাষা। যেখানে গতির বিপরীতে গতি নয়, কল্পনাই হবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মনে হলো, আগামী এক দশকের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ট্রেলার যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল। শুধু বৈভব সুরিয়াভানশি নন, পৃথিবীর অসংখ্য তরুণ ব্যাটার হয়তো এই ভাষাতেই ক্রিকেট খেলতে বাধ্য হবে। ২০০+ স্ট্রাইক রেট হবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নিও-নরম্যাল।

১০ বলে ১৪ রান, স্ট্রাইক রেট মাত্র ১৪০। বড় রান নয়, বিশাল স্ট্রাইক রেট নয়। তবুও বোলারদের বিপক্ষে আগামী এক দশকের জন্য সবথেকে বড় ঘোষনাপত্র দুই খানা ছক্কা।

লেখক পরিচিতি

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক

Share via
Copy link