নরওয়ের বিপক্ষে ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ, আর সেই চ্যালেঞ্জ ঘিরেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে ব্রাজিলের একাদশ।
চারবারের মুখোমুখিতে এখনো নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পায়নি সেলেসাওরা। দুটি ড্র আর দুটি হার—এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় চাপটা কতটা বড়। আর সেই পুরনো দুঃস্মৃতির সবচেয়ে কষ্টের অধ্যায় ছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপ, যেখানে বেবেতোর গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হারতে হয়েছিল ব্রাজিলকে।
এবার সেই ইতিহাস ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে কার্লো আনচেলত্তির দল।

কিন্তু সমস্যা একটাই—একাদশ কাকে নিয়ে সাজাবেন আনচেলত্তি?
ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন নেইমার। পুরো টুর্নামেন্টে এখনো ছন্দ খুঁজে পাননি তিনি, জাপানের বিপক্ষে একেবারেই মাঠে নামেননি, আর পুরো আসরে খেলেছেন মাত্র অল্প কিছু মিনিট।
অন্যদিকে আলোচনায় উঠে এসেছেন ১৯ বছর বয়সী এন্ডরিক। সীমিত সুযোগেই প্রভাব ফেলেছেন তিনি, বিশেষ করে জাপান ম্যাচে তার দ্বিতীয়ার্ধের ইমপ্যাক্ট ম্যাচের গতিপথই বদলে দিয়েছিল। লুকাস পাকেতার ইনজুরির কারণে এবার শুরুর একাদশে এন্ডরিককে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

তবে শুধু আক্রমণ নয়, ব্রাজিলের সামনে আরেক বড় চ্যালেঞ্জ আর্লিং হালান্ড।
নরওয়ের এই গোল মেশিন আইভরি কোস্টের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করে দলকে তুলেছেন শেষ ষোলোয়। তার শারীরিক শক্তি আর ফিনিশিং সামলানোই হতে পারে ব্রাজিল ডিফেন্সের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত লড়াই ম্যাচের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে সম্ভাব্য একাদশে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত আছে আনচেলত্তির পরিকল্পনায়।
গোলবারে থাকবেন এলিসন।রক্ষণে দানিলো, মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল ও সান্তোস।মাঝমাঠে ব্রুনো গুইমারেস ও ক্যাসিমিরো আর আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রায়ান ও কুনহার সঙ্গে থাকতে পারেন এন্ডরিক।

নেইমার থাকবেন কিনা—এটাই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
একদিকে ইতিহাসের চাপ, অন্যদিকে হালান্ডের ভয়ংকর উপস্থিতি—সব মিলিয়ে আনচেলত্তির জন্য এটা শুধু একাদশ সাজানোর ম্যাচ নয়, বরং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষা।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—নরওয়ের বিপক্ষে কি অবশেষে ভাঙবে ব্রাজিলের আক্ষেপ, নাকি আবারও লেখা হবে নতুন কোনো দুঃখের গল্প?











