কোন বিদেশি খেলছেন না ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল), তখন পরিস্থিতি কি দাঁড়াত? এমন একটা প্রশ্ন কখনো না কখনো নিশ্চয়ই উঁকি দিয়েছে আপনাদের মনে। ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম জমকালো আয়োজন তখন কেমন লাগত কল্পনা করেছেন? একেবারে পানসে হয়ে যেত সমস্ত কিছু। দর্শকদের উন্মাদনা কমে নেমে যেত একেবারে তলানিতে।
তাছাড়া ভারতের সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফির গুরুত্ব হ্রাস পেত। কেননা জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটাররা মুশতাক আলী ট্রফিতে নিজেদের মেলে ধরবার সর্বোচ্চ প্রয়াশই করেন। যদি আইপিএলে ভারত জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা খেলতেন, তখন মুশতাক আলী ট্রফির প্রয়োজন দিনকে দিন কমতে শুরু করত।
তা বরং ক্ষতির কারণ হতো ভারতীয় ক্রিকেটের জন্যে, কেননা সেই টুর্নামেন্টকে বলা হয় টি-টোয়েন্টির রঞ্জি ট্রফি। ক্রিকেট নিয়ে যাদের খানিক জানাশোনা আছে তারা নিশ্চয়ই জানেন রঞ্জি ট্রফির মাহাত্ম্য।

আইপিএলে স্রেফ ভারতীয় খেলোয়াড়রা অংশ নিলে, বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে পারত না এই টুর্নামেন্টটি। সারা বিশ্ব বিপুল সংখ্যক দর্শক আইপিএল দেখেন, অনুসরণ করেন, নির্দিষ্ট দলকে সমর্থনও করেন। এই সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে মূলত বিদেশি ক্রিকেটারদের সংযুক্তির কল্যাণে।
প্রিয় খেলোয়াড়দের খেলা দেখতে কেই-বা না চায়। বিদেশের একটা বর্ণিল আয়োজনে নিজ দেশের একজন খেলোয়াড় কেমন করছেন, সেটা জানার আগ্রহ থাকে সকলের। আর সেই আগ্রহ থেকেই আইপিএলে দর্শক সংখ্যা আজ অগণিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে আইপিএল ফ্রাঞ্চাইজিরাও নিজেদের ব্যবসা বিস্তৃত করতে পেরেছে।
এছাড়াও উদীয়মান বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্যেও একটা মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে আইপিএল। কয়েক বছর আগে অবধি রশিদ খান কিন্তু বিশ্বব্যাপী এতটা নন্দিত ছিলেন না। আইপিএলে গোটা বিশ্বের নজর থাকে, রশিদ খান সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছেন পারফরম করে বিশ্বের বুকে নিজের আলাদা অস্তিত্ব সৃষ্টি করেছেন।

তাছাড়া বিদেশি খেলোয়াড়রা না খেললে বিশ্বব্যাপী দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সংখ্যা বেড়ে যেত। এখন তো ক্রিকেট বোর্ডগুলো তাদের খেলোয়াড়দের আইপিএল খেলার সুযোগ করে দিচ্ছে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন না করে। কিন্তু বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়া আইপিএল আয়োজিত হলে, তখন আইপিএলে দর্শক সংখ্যা আরও কমে যেত।
সর্বপোরী আইপিএলে স্রেফ ভারতীয় খেলোয়াড়রা খেললে ব্যবসার পরিধি বড্ড ছোট হয়ে আসত। বিলিয়ন ডলারের একটা ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠত না। তাইতো আইপিএলেরও প্রয়াশ থাকে নামকরা সব বিদেশি খেলোয়াড়দের যেন ভেড়ানো যায় টুর্নামেন্টটিতে। সবশেষে তো এটাও একটা অর্থ কামানোর মেগামঞ্চ।











