গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় এখনও বল গড়ায়নি কোনো টেস্টে, তাই এই মাঠের চরিত্র বোঝার জন্য কোনো পুরনো রেকর্ড হাতড়ানোর সুযোগ নেই কারও। তবু আন্দাজ করা হচ্ছে, ম্যাকের উইকেট আচরণে খুব বেশি দূরের হবে না ডারউইনের মারারা স্টেডিয়াম থেকে। আর সেই হিসেব মাথায় রেখেই তিন পেসার-দুই স্পিনার কম্বিনেশনে খেলার পথেই হাঁটতে পারে বাংলাদেশ, যে ফর্মুলা প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে নয় উইকেটের লজ্জায় ডুবিয়েছিল।
উইনিং কম্বিনেশন না ভাঙাই শ্রেয় — ক্রিকেটের এই পুরনো প্রবাদ মেনেই অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে নামার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ দলের। পেস আক্রমণে সামান্য অদলবদলের সম্ভাবনা থাকলেও সেটা আপাতত ফিটনেস আর কন্ডিশন সাপেক্ষ এক আলোচনা, বড় কোনো চমকের জায়গা নয়। আসল প্রশ্নটা বরং লুকিয়ে আছে ব্যাটিং লাইনআপের একেবারে ওপরের দিকে—ওপেনিংয়ে।
সাদমান ইসলাম প্রথম টেস্টে বড় রান পাননি ঠিকই, কিন্তু তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে শুরুটা খারাপও করেননি বলে তাঁর ওপরই আবার আস্থা রাখার একটা প্রবণতা কাজ করতে পারে ম্যানেজমেন্টের ভেতরে।
প্রশ্নটা এখানেই—এই আস্থাটা আসলে কতটা প্রাপ্য? সাদমানের ক্যারিয়ারের ধরনটাই তো এমন, প্রতি ম্যাচে ২০-৩০ রানের একটা ইনিংস খেলে টিকে যাওয়া, বড় কিছুতে রূপ না নেওয়া। এই প্যাটার্নে বারবার সুযোগ পাওয়াটা আসলে দলের উন্নতির কোনো লক্ষণ নয়, বরং পুরনো এক প্রেসক্রিপশনে অভ্যস্ত হয়ে থাকার লক্ষণ।

সৌম্য সরকারকে স্কোয়াডে রাখার পেছনে যে যুক্তিটা কাজ করেছিল, সেটাও তো ভুলে গেলে চলবে না। বিদেশের বাউন্সি আর সিমিং কন্ডিশনে সৌম্যর ব্যাটিং বরাবরই ঘরের মাঠের চেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ, আর এই দাবির পেছনে রেকর্ডও কম নেই।
নিউজিল্যান্ডে হ্যামিল্টনে ঠিক এমনই এক পেসবান্ধব উইকেটে খেলেছিলেন ১৪৯ রানের ইনিংস, মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে গড়েছিলেন ২৩৫ রানের জুটি—নিউজিল্যান্ড ৭১৫ রান তোলার পরও যে ইনিংস বাংলাদেশকে লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছিল।
ক্রাইস্টচার্চেও ইনজুরিতে জর্জরিত এক দলে ওপেনার হিসেবে নেমে করেছিলেন ৮৬ রান, সেদিনও প্রতিপক্ষের পেস আক্রমণ ছিল যথেষ্ট ধারালো। অর্থাৎ ঠিক এই কারণেই তাঁকে দলে টানা হয়েছিল—অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে যেখানে বাড়তি বাউন্স আর গতি সামলানোর ক্ষমতাটাই আসল পরীক্ষা।
কিন্তু সেই যুক্তি অনুযায়ী দলে নেওয়ার পরও যদি তাঁকে সুযোগই না দেওয়া হয়, স্রেফ পুরনো অভ্যাসের বশে সাদমানকেই দলে রাখা হয়, তাহলে স্কোয়াড নির্বাচনের সেই যুক্তিটাই হয়ে যায় অর্থহীন। ম্যাকের উইকেটও যেখানে শুরুতে পেসারদের সহায়ক হওয়ার কথা, সেখানে বাউন্সি কন্ডিশনে দক্ষ একজন ব্যাটসম্যানকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখাটা যুক্তির চেয়ে অভ্যাসের কাছেই বেশি নতিস্বীকার করা।
তাই ওপেনিংয়ে সাদমানের জায়গায় সৌম্যকেই সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করার কারণ আছে যথেষ্ট। বাকি লাইনআপে অবশ্য কোনো নাড়াচাড়ার প্রশ্ন নেই—অধিনায়কত্বের ভার নাজমুল হোসেন শান্তর কাঁধেই, মুমিনুল হকও থাকছেন মিডল অর্ডারে। আর মুশফিকুর রহিম-লিটন দাস জুটি তো বাংলাদেশের এই মুহূর্তের সবচেয়ে ভরসার জায়গা—বিশেষ করে লিটন, যিনি বারবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে দলের শেষ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
সব মিলিয়ে সম্ভাব্য একাদশ দাঁড়াচ্ছে এমন—তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, এবাদত হোসেন চৌধুরী ও তাসকিন আহমেদ। বাকি দশটি নাম প্রায় নিশ্চিত, প্রশ্নটা কেবল একটাই—পুরনো অভ্যাসে আটকে থাকবে বাংলাদেশ, নাকি স্কোয়াড নির্বাচনের যুক্তিটাকেই মাঠে প্রয়োগ করার সাহস দেখাবে টিম ম্যানেজমেন্ট।










