হোয়াইটওয়াশ ঠেকাতে অজিদের সম্ভাব্য একাদশ!

কাগজে-কলমে এই একাদশ যথেষ্ট ভারী, কিন্তু ডারউইনেও তো তা-ই মনে হয়েছিল—শেষ পর্যন্ত সেই ভারী নামগুলোকেই হালকা করে দিয়েছিল বাংলাদেশ।

স্কোয়াড ঘোষণা হয়ে গেছে, নামের তালিকায় কোনো ধোঁয়াশা নেই—জেক ওয়েদারাল্ডকে বিদায় করে ডাকা হয়েছে ম্যাথু রেনশোকে। কিন্তু ডারউইনের সেই বিধ্বংসী হারের ধাক্কা এখনো যেন কাটেনি অস্ট্রেলিয়ার শরীর থেকে। ঘরের মাঠে নিজেদের এত অসহায় দেখাবে, কে ভেবেছিল! আর সেই ক্ষতটাই যেন ম্যাকাইয়ে নামার আগে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে—একটা নাম বদলালেই সব ঠিক হয়ে যায় না।

ডারউইনে নয় উইকেটের লজ্জার পর ঘরের মাঠে নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো যথেষ্ট উপকরণ জমা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান শিবিরে। ১৯৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া ইনিংসে ওয়েদারাল্ডের ব্যাট থেকে এসেছিল স্রেফ ২৩ আর শূন্য—তার জায়গাটা তাই আর ধরে রাখা যায়নি।

রেনশোর ফেরাটা অবশ্য নিছক একজন ওপেনার বদলানো নয়, বরং ডেভিড ওয়ার্নারের অবসরের পর থেকে সাত নম্বর ওপেনার খুঁজে বেড়ানো এক দলের হন্যে হয়ে থাকারই আরেকটা অধ্যায়। তবে এই ডাকের পেছনে নিছক প্রয়োজনই একমাত্র কারণ নয়—ম্যাকের সঙ্গে রেনশোর একটা পুরনো মধুর সম্পর্কও আছে, এই মাঠেই দুই ফার্স্ট ক্লাস ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ১৭০ ও ১৩৫ রান, আর সেই রেকর্ডই যেন নির্বাচকদের চোখে তাঁকে করে তুলেছে স্বাভাবিক পছন্দ। কিপার অ্যালেক্স ক্যারি নিজেই প্রায় নিশ্চিত করে দিয়েছেন, ট্র্যাভিস হেডের সঙ্গী হয়ে ইনিংস শুরু করবেন রেনশো—তিন বছরেরও বেশি বিরতির পর যার সবশেষ টেস্ট ছিল ২০২৩ সালে দিল্লিতে, ওয়ার্নারের কনকাশন বদলি হিসেবে।

ওপেনিং বাদে বাকি জায়গাগুলোয় বদলের সম্ভাবনা প্রায় নেই। মার্নাস লাবুশেন প্রথম টেস্টে করেছেন ১ ও ৩১, রান পাননি বললেই চলে, তবু নির্বাচকরা তাঁর ওপরই আস্থা রেখেছেন—কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনের জায়গাটায় নতুন কাউকে টেনে আনার বদলে লাবুশেনকেই আরেকটা সুযোগ দিতে চান তাঁরা। স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, বো ওয়েবস্টার—মিডল অর্ডারে এই তিন নামও অটুট।

বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে বড় স্বস্তির নাম প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক আর জশ হ্যাজেলউড—ডারউইনে হ্যাজেলউড একাই নিয়েছিলেন সাত উইকেট, তাই তাঁকে বসিয়ে স্কট বোল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসছে না। বোল্যান্ড আর জশ ইংলিস স্কোয়াডে আছেন ঠিকই, কিন্তু বদলি বেঞ্চের বাইরে এই মুহূর্তে তাঁদের কারো জায়গা তৈরি হচ্ছে না। নাথান লায়নও থাকছেন স্পিন বিভাগে একা।

তাহলে সম্ভাব্য একাদশ দাঁড়াচ্ছে—ট্রাভিস হেড, ম্যাথু রেনশো, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরুন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটকিপার), বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড। কাগজে-কলমে এই একাদশ যথেষ্ট ভারী, কিন্তু ডারউইনেও তো তা-ই মনে হয়েছিল—শেষ পর্যন্ত সেই ভারী নামগুলোকেই হালকা করে দিয়েছিল বাংলাদেশ।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link