কোন পজিশনে খেলবেন হামজা?

হামজা কোন পজিশনে খেলবে? সোজাসাপ্টা উত্তর হচ্ছে তিনি মিডফিল্ডে খেলবেন। তবে গোটা ম্যাচে তার রোল কি হতে পারে সেটা নিয়ে চাইলে বিস্তর আলোচনা করা যায়। কেননা হামজা চৌধুরি বেশ ভার্সেটাইল একজন মিডফিল্ডার। তাকে চাইলে যেকোন ভাবেই ব্যবহার করা যেতে পারে।

হামজা কোন পজিশনে খেলবে? সোজাসাপ্টা উত্তর হচ্ছে তিনি মিডফিল্ডে খেলবেন। তবে গোটা ম্যাচে তার রোল কি হতে পারে সেটা নিয়ে চাইলে বিস্তর আলোচনা করা যায়। কেননা হামজা চৌধুরি বেশ ভার্সেটাইল একজন মিডফিল্ডার। তাকে চাইলে যেকোন ভাবেই ব্যবহার করা যেতে পারে।

বহুল আকাঙ্খার অবসান ঘটিয়ে হামজা চৌধুরি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর। ভারতের বিপক্ষে তিনি যে একাদশে থাকছেন সেটা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু তাকে একাদশে জায়গা করে দিতে হলে ফরমেশনে পরিবর্তন আনতে হবে কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরাকে।

বাংলাদেশ দলে বরাবরই একজন জাত স্ট্রাইকারের অভাব রয়েছে। সেই অভাব নিয়েই ক্যাবরেরা ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলিয়েছেন বাংলাদেশ দলকে। তবে হামজার অন্তর্ভুক্তির সাথে সাথে, বাংলাদেশ দল একজন জাত স্ট্রাইকারও সম্ভবত খুঁজে পেয়েছে। পুলিশ এফসির আল-আমিন হতে পারেন ফক্স ইন দ্য বক্স।

এখন এই দুইজনকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের ফরমেশন হতে পারে ৪-২-৩-১। এই ফরমেশনে মিডফিল্ডে বাংলাদেশ বেশ শক্ত এক অবস্থান তৈরি করতে পারবে তা বলে দেওয়া যায়। ডাবল পিভট কৌশলের একজন হতে পারেন হামজা আরেক জন হতে পারেন জামাল ভূঁইয়া। হামজাকে এক্ষেত্রে খানিকটা ফ্রি রোল দিয়ে, জামালকে প্রোপার ডিফেন্সিভ রোলে খেলাতে পারেন কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা।

এই দুইজনের ঠিক উপরে অ্যাটাকিং মিডফিল্ড পজিশনে শেখ মোরসালিন হতে পারেন হাতে থাকা সেরা বিকল্প। দুই উইংয়ে রাকিব হোসেন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে থাকছেন আলামিন। সত্যি বলতে হামজা বাংলাদেশ দলের জন্যে একটা আশির্বাদ। তার লেভেলের খেলোয়াড় গোটা দক্ষিণ এশিয়াতে নেই।

তার বল দখল, বল সঞ্চালন ও বল আয়ত্ত্বে নেওয়ার দক্ষতা বাকিদের চাইতে ঢের এগিয়ে। তাছাড়া তার স্ট্যামিনা ও কৌশলও বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড থেকে বেশ খানিকটা উপরে। অতএব এমন একজন খেলোয়াড়কে মাঝমাঠের ফ্রি রোল দেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত। এক্ষেত্রে আক্রমণের সময় মোরসালিনের সাথে পাস দেওয়া নেওয়া করে বল এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন হামজা। দুই উইং থেকে গতিশীল রাকিব ও ফাহিম খালি জায়গা পেয়ে যাবেন তখন।

তাছাড়া প্রতি আক্রমণে সময় হামজা ট্র্যাকব্যাক করে শুরুতেই নস্যাৎ করে দিতে পারবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ- এক্ষেত্রে ভারত। তার গতি, তার স্ট্যামিনা ও তার স্কিলের সামনে বেশ কঠিন সময়ই পার করতে হবে উপমহাদেশের যেকোন প্রতিপক্ষকে। সুতরাং তিনি যে প্রায় বক্স-টু-বক্স রোলে খেলতে চলেছেন তা নিশ্চিত। যেকোন কোচই আসলে তাকে সে রোলে খেলাতে চাইবে।

কিন্তু হামজা প্রত্যাশার কতটুকু পূরণ করতে পারবেন, সেটা অনেকটাই নির্ভর করবে দলের বাকি খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের উপর। বাকিরা যদি তাকে সাহায্য করতে পারেন কেবল তবেই বাংলাদেশ হামজার সর্বোচ্চটুকু ব্যবহার করতে পারবে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link