নাসুম নাকি তানভীর, ওয়ানডে দলে নিয়মিত হবেন কে?

বাংলাদেশের ক্রিকেট যাত্রার একেবারে শুরু থেকেই বা-হাতি স্পিনার ছাড়া রীতিমত জাতীয় দল ছিল অকল্পনীয়। সময়ের পরিক্রমায় সেই জায়গাটা একটু নড়বড়ে হয়েছে বটে। যদিও তানভীর ইসলাম ও নাসুম আহমেদরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, বাংলাদেশি বাহাতি স্পিনারদের হারানো জৌলুশ আবার ফিরিয়ে আনতে। এই দুইজনের মধ্যে আবার চলছে ভিন্নধর্মী টক্কর।

ওয়ানডে দলে জায়গা হবে কার? এমন একটা প্রশ্ন তুললে সোজাসাপ্টা নাসুম কিংবা তানভীরের মধ্যে একজনকে এগিয়ে রাখা দুষ্কর। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে তানভীর সর্বাধিক ম্যাচ খেলেছেন ওয়ানডেতে। তানভীরের নয়খানা ম্যাচের বিপরীতে নাসুম সুযোগ পেয়েছেন পাঁচটি ম্যাচে।

তানভীর নিজের অভিষেক সিরিজেই করেছিলেন বাজিমাত। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ফাইফার তুলে নিয়ে তিনি দিয়েছিলেন নিজের আগমনী বার্তা। এরপর ধারাবাহিকভাবে তিনি খেলেছেন আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে সিরিজ। তাতে করে নয় ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে, ১৬টি উইকেট বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। একটি ম্যাচেও উইকেটশূন্য থাকেননি।

অন্যদিকে নাসুম বিশ্বকাপের পর খেলেছেন পাঁচ ম্যাচ। ২০২৪ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুইটি এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি। তারপর তানভীরের সাথে জোট বেঁধে বোলিং করেছেন ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, সিরিজের শেষ দুইটি ওয়ানডে ম্যাচে। তার ঝুলিতে আছে নয় খানা উইকেট।

এই দুইজনের একসাথে খেলা ম্যাচে, নয় উইকেট। অতএব দুইজনের যুগলবন্দী কন্ডিশন বিবেচনায় হতে পারে ভীষণ কার্যকর। কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয়ই এখনও মেলেনি। দুইজনের বোলিংয়ের ধরণ একই। তবে তানভীরের তুলনায় নাসুমের লাইন ও লেন্থের উপর নিয়ন্ত্রণ অপেক্ষাকৃত ভাল। অন্যদিকে তানভীর আবার নতুন বলের সিমের ব্যবহারটা করতে জানেন।

এখন দলের চাহিদার উপর নির্ভর করবে কে আসলে দলে থাকবেন। বাংলাদেশের পেস ইউনিট বেশ ভাল অবস্থায় রয়েছে। স্ট্রাইকিং স্পিনার হিসেবে আছেন রিশাদ হোসেন। এখন রানের চাকায় লাগাম টেনে সতীর্থদের জন্য মঞ্চ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে নাসুম হতে পারেন ভাল পছন্দ। নিজেও ব্যাটারকে ভরকে দিয়ে উইকেট নিতে পটু তিনি।

আবার কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষ বিবেচনায় নাসুম ও তানভীর উভয়ই দলের সুযোগ পেতে পারেন। তানভিরকে দিয়ে শুরুতেই সেদিন উইকেট শিকারের অন্বেষণ চালানো যেতে পারে। অতএব নাসুম ও তানভীর দুইজনই জাতীয় দলের ওয়ানডে ফরম্যাটে থাকতে পারেন। কিন্তু এসব কিছু নির্ভর করবে সাকিবের ফেরা না ফেরার উপর। তিনি ফিরলে সমীকরণ বদলে যাবে, নতুন ভাবনার উদয় হবে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link