মিরাজের বিতর্কিত রান আউটের পর থেকেই স্পোর্টসম্যানশিপের বুলি আওড়াচ্ছেন ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা থেকে শুরু করে পাকিস্তান সমর্থকরা। ক্রিকেটের নিয়ম মেনে সালমান আলী আঘাকে রান আউট করা হলেও, স্পোর্টসম্যানশিপ কিংবা ক্রিকেটের ভদ্রতা বিনষ্ট হওয়ার দাবি তুলছেন তারা। অথচ নিজেদের বেলায় যেন মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের শেষলগ্নে পকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল শেষ দুই বলে ১২ রান। বোলার রিশাদ হোসেনের করা একটি বল লেগ স্টাম্পের অনেকটা বাইরে দিয়ে কিপারের গ্লাভসে জমা পড়লে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা হাত প্রসারিত করে ‘ওয়াইড’ ঘোষণা করেন। সমীকরণ দাঁড়ায় দুই বলে ১১ রানে।
মাঠে তখন ভিন্ন চিত্র। আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্ত যেন মানতেই পারছিলেন না বাংলাদেশি খেলোয়াড়েরা। বোলার রিশাদ নিশ্চিত ছিলেন বল ব্যাটে বা পায়ে লেগেছে। উইকেটের পেছনে থাকা লিটন দাস ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও কিছুটা বিভ্রান্ত। ঠিক সেই মুহূর্তেই লিটন দাসের উপস্থিত বুদ্ধিতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নেওয়ার সংকেত দেন মিরাজ।

আর এতেই যেন মুখ কালো হয়ে যায় শাহীন শাহ আফ্রিদির। আম্পায়ারের কাছে শাহীন জানতে চেয়েছিলেন, ওয়াইডের বিরুদ্ধে রিভিউ কীভাবে হয়? ধর্মসেনা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, রিভিউটি মূলত আউটের আবেদনে। ঠিক সেই মুহূর্তেই দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য। রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত আসার আগেই শাহীন আফ্রিদি নিজের ব্যাট দিয়ে সজোরে মাটিতে আঘাত করলেন। তখনই প্রশ্ন জাগে, কেন এই হতাশা?
থার্ড আম্পায়ারের রিপ্লেতে দেখা গেল, বলটি কিপারের কাছে যাওয়ার আগে শাহীনের ব্যাটে লেগেছিল। অর্থাৎ, এটি কোনোভাবেই ওয়াইড ছিল না। শাহীন আফ্রিদি সেটি মুহূর্তের মধ্যেই বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি জানতেন, লিটন দাসের তীক্ষ্ণ বুদ্ধির কাছে তার ম্যাচ জেতার যেটুকু সম্ভাবনা ছিল সেটাও শেষ হয়ে গেলো। আর সেই ব্যর্থতার গ্লানি থেকেই মাঠ চাপড়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সম্প্রতি রমিজ রাজাসহ পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা বারবার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্পোর্টসম্যানশিপ বা খেলার নৈতিকতা নিয়ে বড় বড় বয়ান দিয়েছেন। কিন্তু যখন নিজের দেশের অধিনায়কের সামনে সত্য বলার সুযোগ এলো, তখন সেই ‘স্পিরিট অফ ক্রিকেট’ যেন কর্পূরের মতো উবে গেল।

ম্যাচ শেষে সেই বাংলাদেশের রিভিউ নিয়ে ম্যাচ রেফারির কাছেও অভিযোগ জানায় পাকিস্তান। সত্যকে লুকিয়ে বাড়তি সুবিধা নিতে যেন একপ্রকার মরিয়া ছিলেন শাহীন। অথচ ক্রিকেটের নিয়ম মেনেই মিরাজের আঘাকে আউট করার বিষয়টি নাকি স্পোর্টসম্যানশিপের অন্তরায়!










