বিশ্বকাপের স্বপ্নে শত্রু আবহাওয়া!

মরুভূমির মতো তপ্ত টেক্সাস বা মায়ামির চড়া রোদে ৯০ মিনিট ধরে গতি আর শিল্পের ফুলঝুরি ফোটানো যেকোনো ফুটবলারের জন্যই অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ।

প্রতিপক্ষের শক্ত কোনো ডিফেন্ডার না, বরং লিওনেল মেসি-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে আসতে পারে আবহাওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি, টেক্সাস কিংবা ডালাসের তীব্র দাবদাহে এবার পুড়তে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এই চরম গরমের কারণে গ্রুপ পর্বেই আটকে যেতে পারে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা পর্তুগালের মতো পরাশক্তিদের বিশ্বজয়ের সোনালী স্বপ্ন।

মরুভূমির মতো তপ্ত টেক্সাস বা মায়ামির চড়া রোদে ৯০ মিনিট ধরে গতি আর শিল্পের ফুলঝুরি ফোটানো যেকোনো ফুটবলারের জন্যই অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ। তীব্র গরমে দ্রুত ফুরিয়ে আসবে খেলোয়াড়দের দম, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে পারে। আর এই শারীরিক ক্লান্তিই বড় দলগুলোর অঘটনের প্রধান কারণ হতে পারে।

হেক্সা জয়ের মিশনে নামা ব্রাজিলকে গ্রুপ পর্বে মোকাবিলা করতে হবে স্কটল্যান্ডের। কিন্তু, সাম্বার ছন্দ দেখানোর আগেই যদি মায়ামির চড়া রোদ নেইমার জুনিয়র-রাফিনিয়াদের ক্লান্ত করে দেয়, তবে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চরম মাশুল গুনতে হতে পারে সেলেসাওদের। ইউরোপের দল স্কটল্যান্ডের চেয়েও এখানে ব্রাজিলের বড় শত্রু আবহাওয়া।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ধরে রাখার লড়াইয়ে ডালাসের তপ্ত কড়াইতে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের চেনা পাসিং ফুটবল আর প্রেসিং গেম এই তীব্র গরমে স্থবির হয়ে পড়তে পারে। গরমের কারণে আসা ক্লান্তি যদি হুলিয়ান আলভারেজ-এনজো ফার্নান্দেজদের ৯০ মিনিট সার্ভিস দিতে না দেয়, শুরুতেই বিদায় নিতে হতে পারে লিওনেল মেসির দলকে।

এই অগ্নিপরীক্ষা থেকে বাদ যাচ্ছে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালও। মায়ামিতে যাদের লড়তে হবে শক্তিশালী কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে। পর্তুগিজদের জন্য এই আবহাওয়া এক মহাসংকট হয়ে দাঁড়াতে পারে। গ্রুপ পর্বের এই মরণকামড় ম্যাচে একটু অসাবধানতা মানেই ইউরোপের অন্যতম সেরা দলটির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ওখানেই থমকে যাওয়া।

বিশ্বকাপের বহুল আরাধ্য ট্রফি সহজেই কারো হাতে ওঠে না। সেই পথে এমন বাধা আসতেই থাকে।  প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ জয় করে যারা নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারবে, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা উঠবে তাদেরই হাতে।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link