বড় স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে জাপান

এর আগে কখনো কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডি পার হতে না পারা জাপানের দিকে এবার তাকিয়ে আছে বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকেরা।

তবে কি প্রথম এশিয়ান দল হিসেবে বিশ্বকাপ জিততে যাচ্ছে জাপান? নিয়মিত ফুটবলের খোঁজ-খবর না রাখলে এই কথায় হয়তো অবাক হতে পারেন। কিন্তু, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে এশিয়ান পরাশক্তিটি কিন্তু জানান দিচ্ছে, বিশ্বকাপের ময়দানে কাউকেই ছেড়ে কথা বলতে না ব্লু-সামুরাইরা। 

গত নয় মাসে একবারও পরাজয়ের মুখ দেখেনি জাপান। ছোটোখাটো কোনো দল নয়, বরং, এই সময়ে জাপান হারিয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ইংল্যান্ড আর হেক্সার মিশনে নামা ব্রাজিলকে। এই দলগুলোকে হারিয়ে দেওয়াকে মোটেও কোনো কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দাবি করা যাবে না। 

দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পরেও তিন গোল জালে জড়িয়ে যেভাবে সাম্বার দেশ ব্রাজিলকে হারিয়েছে, কিংবা পুরো ম্যাচ জুড়ে প্রতিপক্ষকে সবদিক থেকে চাপে রেখে যেভাবে একের পর এক ম্যাচ জিতে চলেছে, তাতে জাপানের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়।  

আক্রমণ থেকে শুরু করে রক্ষণভাগ হোক অথবা মিডফিল্ড, কোনো জায়গাতেই জাপানের এবারের বিশ্বকাপ দলটাকে দুর্বল ভাবার সুযোগ থাকবে না কোনো প্রতিপক্ষের সামনে। লিভারপুলের ওয়াতারু এন্দো, বায়ার্ন মিউনিখের হিরোকি ইতোর মতো ইউরোপজয়ীদের সাথে আছে এক ঝাঁক প্রতিভাবান তরুণেরা। যাদের চোখে স্বপ্ন বিশ্বমঞ্চে বড় কিছু করে দেখানোর।   

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দলের অন্যতম মূল ভরসার নাম মিতোমা কাওরুর ছিটকে যাওয়াটা জাপানের জন্য এক বড় ধাক্কা। তবে মিতোমাকে বাদ দিলেও বাকিদের নিয়ে জাপানের দল অত্যন্ত গোছানো। যারা বিশ্বমঞ্চে যেকোনো অসাধ্য সাধন করতে পারে।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে জাপানের বিশ্বকাপ অভিযান। গ্রুপ ‘এফ’-এ তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ সুইডেন ও তিউনিসিয়া। ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা ২৩ জন প্রতিভাবান ফুটবলার নিয়ে গঠিত এই বর্তমান স্কোয়াডটিকে বলা হচ্ছে জাপানের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ও শক্তিশালী দল।

সাম্প্রতিক ফর্ম ধরে রাখতে পারলে বড় কিছু করা যে জাপানের পক্ষে সম্ভব তা বলে দিতে হয় না। এর আগে কখনো কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডি পার হতে না পারা জাপানের দিকে এবার তাকিয়ে আছে বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকেরা। এখন শুধু দেখার অপেক্ষা, সামুরাইরা এবার এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি ছুঁয়ে ইতিহাস গড়তে পারে কি না! 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link