বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ জয় অজিদের

ব্রিসবেনে অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ নারী দলকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ ৪৯.৫ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয়, জবাবে অস্ট্রেলিয়া ২২.৪ ওভারেই ২ উইকেটে ১৭৫ রান তুলে ম্যাচ শেষ করে দেয়। ফল দেখে হিসাবটা সহজ মনে হলেও বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজের গুরুত্বটা অন্য জায়গায়।

প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। অস্ট্রেলিয়ার মতো চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে জেতার আশা খুব বেশি কেউ করেনি, চাওয়া ছিল ভালো পারফরম্যান্স। আর সেদিক থেকে দেখলে ব্যাটাররা নিজেদের অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছেন। গত কয়েকটা সিরিজে ব্যাটিং নিয়েই সবচেয়ে বেশি ভুগেছে দলটা, অথচ এই সফরে প্রথম ম্যাচ থেকেই কিছু না কিছু এসেছে। এই ম্যাচেও এসেছে দুটি ফিফটি, কেউ না কেউ ঠিকই দায়িত্ব নিচ্ছেন।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ছিল ভয়ংকর। মেগান শাটের সামনে ১৮ রানে তিন উইকেট পড়ে যায়, ১৬তম ওভারে চতুর্থ উইকেটও পড়ে ৩৯ রানে। শাট শেষ করেন ১০ ওভারে ৫ মেডেনে ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে। এই অবস্থা থেকে দলকে টেনে তোলেন শারমিন আক্তার  ও স্বর্ণা আক্তার, দুজনের ব্যাটিংয়ের ধরন ছিল পুরো আলাদা। শারমিন এক প্রান্ত আঁকড়ে পড়ে থাকেন, একসময় ৬৭ বলে তাঁর রান ছিল মাত্র ৯। ওদিকে স্বর্ণা ২২ বলেই ৪২ রানে পৌঁছে যান। এই ধীর আর দ্রুতের মিশেলেই দল শতকের কাছে যায়। শারমিন ৯৩ বলে ৮ চারে ৫০ করে এলিস পেরির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন, আর স্বর্ণা লড়াই চালিয়ে ৭১ বলে ৫৪ রান করে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের বলে স্টাম্পড হন। এই দুজন ছাড়া আর কেউ ধারাবাহিক হতে পারেননি, আর সেখানেই আটকে গেছে দল। বড় লক্ষ্য দাঁড় করানো যায়নি, ১৭২ রানেই ইনিংস শেষ।

১৭৩ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার কাছে খুব বড় কিছু ছিল না। ৩৮ রানে দুই উইকেট হারালেও সাদারল্যান্ড আর পেরি ম্যাচটা পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। সাদারল্যান্ড প্রথম পাঁচ বলে রান পাননি, এরপর খুলে খেলে ৫২ বলে অপরাজিত ৭৪ রান করেন। পেরি অপরাজিত থাকেন ৬৫ রানে। দুজনের জুটিতে এসেছে ১২৪ রান, ম্যাচ শেষ হয়েছে ২৭ ওভারেরও বেশি বাকি থাকতে। বল হাতেও সাদারল্যান্ডের দিন ভালো গেছে, ৬ ওভারে ২৫ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার মতো দল ছোট লক্ষ্য পেলে হেসেখেলেই জিতে যায়, এটা নতুন কিছু না। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে দাঁড়িয়ে এমন সাহসী ব্যাটিং বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়াবে। ফলটা হারের হলেও এই সফর থেকে দলের সবচেয়ে বড় পাওনা সম্ভবত সেটাই।

 

Share via
Copy link