অভিষেক শর্মাকে টপকে বিশ্বরেকর্ড ফারহানের

অভিষেক শর্মাকে পেছনে ফেলে রেকর্ডের খাতায় নিজের নাম লিখলেন সাহিবজাদা ফারহান। রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে দুই পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে গেলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক।

অভিষেক শর্মাকে পেছনে ফেলে রেকর্ডের খাতায় নিজের নাম লিখলেন সাহিবজাদা ফারহান। রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে দুই পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে গেলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। সিরিজ আগেই জেতা ছিল পাকিস্তানের, তাই এই ম্যাচের হারটা বড় কোনো আক্ষেপ হয়ে থাকল না। আলোচনার পুরোটা জুড়ে থাকলেন ফারহানই।

অভিষেকের রেকর্ডটা ছিল ২২৯ রানের, চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে করা। সিরিজ শেষে ফারহানের সংগ্রহ দাঁড়াল ২৩৮। তালিকায় এরপরই আছেন নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো আর অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার। এই তালিকার ওপরে ওঠা সহজ কাজ নয়, ফারহান সেটাই করে দেখালেন।

রানগুলো এসেছে তিন ম্যাচে টানা তিন অর্ধশতকে। প্রথম ম্যাচে ৫৩ বলে ৮৯ রান করে পাকিস্তানকে চার উইকেটের জয় এনে দেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেন ৪৪ বলে ৭৩ রানের ইনিংস, পাকিস্তান সেই ম্যাচ জেতে ৮২ রানে, সঙ্গে সিরিজও নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ ম্যাচে ৪৭ বলে করলেন ৭৬। অধিনায়ক হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ, আর শুরুটা এর চেয়ে ভালো হওয়ার সুযোগ ছিল না।

ম্যাচ শেষে ফারহানের কথায় ছিল ঠান্ডা মাথার ছাপ। বলেছেন, “প্রথম দুই ম্যাচে আমরা যেভাবে দারুণ একটা লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছিলাম, আজও আমাদের পরিকল্পনা একই ছিল। কিন্তু এটা ক্রিকেট, যেকোনো কিছুই হতে পারে।” নিজের ধারাবাহিকতা নিয়ে যোগ করলেন, “চেষ্টা থাকে ধারাবাহিক থাকার। যখন ভালো খেলি, পরের ম্যাচে আরও বেশি মনোযোগী হই। এটা ক্রিকেট, সবসময় ফর্মে থাকা যায় না। তাই সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।”

ফর্ম যে তাঁর এখন তুঙ্গে, সংখ্যাগুলোই তার প্রমাণ। সর্বশেষ ১১ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে ৬৩২ রান করেছেন, যার মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি আর পাঁচটি অর্ধশতক। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ৩৮৩ রান করে রেকর্ড গড়েছিলেন এই ৩০ বছর বয়সী ওপেনার। সিরিজসেরার পুরস্কারটাও তাই উঠেছে তাঁর হাতেই।

ম্যাচটা অবশ্য জিতেছে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের ১৬৮ রানের লক্ষ্য তারা ১৭ বল হাতে রেখে আট উইকেটে পেরিয়ে যায়, আর হোয়াইটওয়াশ এড়ায়। ম্যাচসেরা হন লঙ্কান অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস, ৪৭ বলে ৮৭ রান করে। তাঁর কথায়, “মাঝের ওভারগুলোতে আমরা সত্যিই ভালো বোলিং করেছি। ফিল্ডিংও আগের চেয়ে ভালো ছিল, ব্যাটিং তো দুর্দান্ত। তিন বিভাগেই আমরা ভালো খেলেছি।” তবু সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান, ২-১ ব্যবধানে, আর সিরিজের সবচেয়ে বড় গল্প হয়ে থাকল ফারহানের ব্যাটিং।

Share via
Copy link