আবুধাবিতে জয় বিসর্জন দিল বাংলাদেশ!

ক্যাচ মিস মানেই ম্যাচ মিস, কথাটা ক্রিকেটে পুরনো, আবুধাবিতে সেটা আরও একবার প্রমাণ করল বাংলাদেশ।

ক্যাচ মিস মানেই ম্যাচ মিস, কথাটা ক্রিকেটে পুরনো। আবুধাবিতে সেটা আরও একবার প্রমাণ করল বাংলাদেশ। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য, হাতে পুরো একটা দিন, আর শেষ দিনের পিচে স্পিনারদের সুবিধা পাওয়ার কথা। চতুর্থ দিন শেষে সবাই ধরেই নিয়েছিল, বাংলাদেশ কখন জিতবে সেটাই শুধু দেখার বিষয়। কিন্তু পঞ্চম দিনে ভাগ্য আস্তে আস্তে ঘুরে গেল আফগানিস্তানের দিকে। যে পিচে স্পিনারদের রাজত্ব করার কথা, সেখানে তাইজুল ইসলাম আর মেহেদী হাসান মিরাজ লাঞ্চ পর্যন্ত উইকেটের দেখাই পেলেন না। আফগানিস্তান একের পর এক সেশন কাটিয়ে দিল, আর বাংলাদেশ কাছাকাছি থেকেও জয়টা ধরতে পারল না। শেষ পর্যন্ত একের পর এক ভুলেই হাত থেকে ফসকে গেল ম্যাচটা।

প্রথম বড় সুযোগটা এল ৮৪তম ওভারে, তখন সেদিকুল্লাহ অটলের রান ৭০। তাইজুলের বলে ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে এসে বড় এক সুইপ করতে গেলেন, বল মিস করলেন পুরোপুরি। ক্রিজে ফেরার আগেই স্ট্যাম্পিং হওয়ার কথা, কিন্তু লিটন দাস বলটা ঠিকমতো গ্লাভসে নিতে পারলেন না। সেই অটল পরে ১১১ রান করে গেলেন, খেললেন ৩৩২ বল। আফগানিস্তানের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সেঞ্চুরি করার রেকর্ডও হলো তাঁর।  

চা বিরতির আগে অবশ্য মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ফিরে আসছে। মিরাজ ইসমত আলম আর হাশমতউল্লাহ শাহিদিকে তুলে নিলেন, আফগানিস্তান ৬ উইকেটে ২৬৫। জিততে আর চারটা উইকেট দরকার। কিন্তু চা বিরতির পর যেন অন্য এক বাংলাদেশ মাঠে ফিরে এলো। আর এরপর যেন মনে হচ্ছিল ভাগ্যটা ড্রেসিংরুমেই রেখে এসেছে বাংলাদেশ।

শুরুটা ১২০তম ওভারে। তাইজুলের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে ইয়ামিন আহমাদজাই সেভ করতে চাইছিলেন, বল গড়িয়ে গিয়ে লাগল স্ট্যাম্পে, কিন্তু বেল পড়ল না। বাংলাদেশের ফিল্ডাররা মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন, একজন তো বেল ছুঁয়ে দেখলেন সত্যিই জায়গায় আছে কি না। পরের ওভারেই এল দুই দফা রান আউটের সুযোগ। প্রথমটায় নাঈম হাসান বল ধরে স্টাম্প মিস করলেন, যার কোনো ব্যাখ্যাই নেই। পরের বলেই আফগান ব্যাটারদের গোলমালে আবার সুযোগ এল, আবারও কাজে লাগানো গেল না। কাইস আহমেদ তখন সাত বলে ৭ রানে, আর এই দুই জীবন পেয়ে তিনি খেলে গেলেন নির্ভার ভঙ্গিতে।

তারপর ১৩০তম ওভারে হাসান মাহমুদ একটা সহজ ক্যাচ ফেললেন। ওখান থেকেই ম্যাচটা বাংলাদেশের হাত থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে গেল। কায়েস শেষ পর্যন্ত ৮০ বলে ৪৯ রান করলেন, মারলেন তিনটা ছক্কা, শেষ ওভারেই দুটো। আফগানিস্তান ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রানে ম্যাচ শেষ করল।

ম্যাচ ড্র হলো, কিন্তু আফগানরা উদযাপন করল জয়ের মতো। এত বড় লক্ষ্যের সামনে তাদের জেতার সুযোগ প্রায় ছিলই না, লক্ষ্য ছিল শুধু বেঁচে থাকা। সেটা তারা করে দেখাল, আর বাংলাদেশ বুঝল হাতের মুঠোয় আসা জয় কীভাবে ফসকে যায়।

 

Share via
Copy link