কি এক লড়াই, কি এক অবিশ্বাস্য ইনিংস! সেদিকুল্লাহ অটল শেষ পর্যন্ত সর্বস্ব দিয়ে লড়ে গেলেন। শতক এসেছে, তবে সেটাকে দিয়ে এই ইনিংসের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা যায় না। এক পাশে সবাই যখন ঝরাপাতার মতো ঝরে গেছে, অন্য পাশে বটবৃক্ষ হয়ে অটল থেকেছেন তিনি। শেষমেষ আফগানিস্তানের ড্রয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন এই সেদিকুল্লাহ অটল।
একদম শুরু থেকেই বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান অটল। ২৮ রানে আফগানিস্তানের দুই উইকেট তুলে নিয়ে যখন জয়টাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে বলে ধরে নিয়েছে বাংলাদেশ, তখনই অটল এক প্রাচীর তুলে দিলেন। চতুর্থ দিন সামলে বাঁচিয়ে রেখেছেন নিজের উইকেট, শেষ দিনে হয়ে উঠলেন অপ্রতিরোধ্য। টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য ধরে পড়ে থাকা লাগবে, ভুল যত বেশি সম্ভব কম করা যায়, সেটাই করতে হবে। সেদিকুল্লাহ অটল তাই করেছেন। একেবারে আদর্শ টেস্ট ব্যাটিং যাকে বলে।
রহমত শাহর সঙ্গে ৮২ রানের জুটি, ইকরাম অলিখিলকে নিয়ে ৬৬ কিংবা ইসমত আলমের সঙ্গে ৪০ রান তোলা, যেখানে ৩৫ অটলের একার। যতবারই ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় পড়েছে আফগান শিবির, ততবারই অটল ঢাল হয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দিয়েছেন।

এর আগে মাত্র দুটি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা ছিল। তবুও পরিণত এক ইনিংসের ছাপটা রেখে গেলেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতকের দেখা পেলেন এমন এক সময়ে, যেখানে দলকে বাঁচানো ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পন্থা ছিল না। শুধু তাই নয়, এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন অটল। প্রথম আফগান ক্রিকেটার হিসেবে চতুর্থ ইনিংসে শতক। সেই সঙ্গে তিনি বল মোকাবিলা করেছেন ৩৩২টি, যা চতুর্থ ইনিংসে এর আগে কোনো আফগান ব্যাটারই করতে পারেননি।
প্রতিটি বলের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন, চারপাশে ওত পেতে থাকা ফিল্ডারদের অপেক্ষায় রেখে সলিড ডিফেন্স করছেন। আবার সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বাউন্ডারি আদায় করতেও কার্পণ্য করেননি। একেবারে পারফেক্ট এক ইনিংসের প্রতিচ্ছবি। শেষমেশ থামেন ১১১ রানে।
এই ইনিংসের মাহাত্ম্য তাই বিশাল। সমরাঙ্গন থেকে সহযোদ্ধারা যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, সবাই তখনই বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়েছেন অটল। পরাজয় জেনেও হাল ছাড়েননি। আক্ষেপ নিয়েই সাজঘরে ফিরেছেন বটে, তবে যা করেছেন, তা আফগান ক্রিকেটের এক অলিখিত মহাকাব্য হয়েই থাকবে। জয়-পরাজয়ের হিসাব ছাপিয়ে অটলকে নায়ক বানিয়ে রাখবে।











