ফারহানের টানা তৃতীয় ফিফটিতে পাকিস্তানের লড়াইয়ের পুঁজি!

রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের ব্যাটারদের যখন আসা যাওয়ার মিছিল শুরু হলো তখন  একজন শুধু দাঁড়িয়ে ছিলেন। সাহিবজাদা ফারহান।

রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের ব্যাটারদের যখন আসা যাওয়ার মিছিল শুরু হলো তখন  একজন শুধু দাঁড়িয়ে ছিলেন, সাহিবজাদা ফারহান। একের পর এক সঙ্গী ফিরে গেছেন, শ্রীলঙ্কার বোলাররা ফাঁদ পেতেছেন, আর তিনি ৪৭ বলে ৭৬ রান করে দলকে এনে দিয়েছেন লড়াই করার মতো টার্গেট। টানা তৃতীয় ফিফটির রাতে পাকিস্তানের ইনিংসটা আসলে ছিল তাঁরই গল্প।

শুরুটা আসলে দারুণ ছিল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ফারহান আর ফখর জামান প্রথম তিন ওভারেই তুলে ফেললেন ৩৪। বিনুরা ফার্নান্দোর এক ওভারে উঠল ১৫ রান, তার মধ্যে ফারহানের পুল করা একটা ছক্কা। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, তখনই বল হাতে এলেন এশান মালিঙ্গা এবং  একে একে শুরু হলো ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়া।

ফারহান এর কিছুই গায়ে মাখলেন না। ফার্নান্দোকে পরপর দুই বলে দুই চার মারলেন, দুই উইকেট হারিয়েও পাওয়ারপ্লে শেষ হলো ৫৭ রানে, রান উঠছিল প্রায় ১০ করে। লেগ স্পিনার বিজয়কান্ত বিয়াসকান্তের বিপক্ষে হাঁটু গেড়ে স্লগ সুইপ করলেন, আর সুযোগ পেলেই এক-দুই রানে স্ট্রাইক ঘোরালেন। একের পর এক ব্যাটার আসছিলেন আর যাচ্ছিলেন, ফারহান থেকে গেলেন। ১৫তম ওভারে শানাকার বলে এক রান নিয়ে পূর্ণ করলেন ফিফটি, টানা তৃতীয় ফিফটি এটা। ডাগআউট থেকে দর্শকসারি, সবাই দাঁড়িয়ে হাততালি দিল, আর তিনি দুই হাত তুলে সেটা গ্রহণ করলেন।

ম্যাচের মোড় ঘুরল আরাফাত মিনহাজকে পাশে পেয়ে। ছয় উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ক্রিজে এসে মিনহাজ খেললেন ২০ বলে ৩৪ রানের এক সাহসী ইনিংস, মারলেন দুটি চার আর দুটি ছক্কা। দুজনের এই জুটি টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের সপ্তম উইকেটে সবচেয়ে বড়। ১৮তম ওভারে মালিঙ্গার বিপক্ষে ফারহান শেষ দুই বলে দুটি ছক্কা মারলেন, ওভার থেকে এল ১৯ রান। শেষ পাঁচ ওভারে উঠল ৫৯ রান।

শেষ ওভারের পঞ্চম বলে নুওয়ান থুসারার স্লোয়ারে ফারহান উঁচু করে মারলেন, কভার থেকে দৌড়ে এসে দারুণ ক্যাচ নিলেন শানাকা। ৪৭ বলে ৭৬ রান, সাতটি চার আর তিনটি ছক্কায়। কিন্তু ততক্ষনে লক্ষ্য টা দাঁড়িয়ে গেছে, নিজের কাজ টা করে ফেলেছেন ফারহান।

ফারহান আর মিনহাস ছাড়া দলের আর কেউ ১৬-র বেশি রান করতে পারেননি। ১৬৮ রানের সিংহভাগই এল একজনের ব্যাট থেকে। ভেঙে পড়া ইনিংসকে যিনি টেনে তুলে লড়াইয়ের জায়গায় এনে দাঁড় করান, দলের আসল ভরসা তো তিনিই।

Share via
Copy link