ভুল কৌশল আর ফিল্ডিংয়ের খেসারত ড্র দিয়ে গুণলো বাংলাদেশ!

টেস্ট ক্রিকেট যুগ যুগ ধরেই মনস্ত্বাত্বিক খেলা। অধিনায়কের সিদ্ধান্ত আর পরিস্থিতি বুঝে এগোনোর ক্ষমতা সেখানে অনেক কিছু বদলে দেয়, আর এই মানসিক লড়াইয়ে যারা জেতে, দিনের শেষে তাদের পরিকল্পনাই সফল হয়।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে জেতার মতো জায়গায় থেকেও ম্যাচটা ড্র হয়ে গেল। এর ময়নাতদন্ত করতে বসলে কারণ মিলবে একটা-দুটো নয়, অনেকগুলো। তবু সবকিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে নাঈম হাসানের বোলিং আর হাতছাড়া হওয়া  রান আউটের সুযোগ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক শান্ত নিজেও মেনে নিয়েছেন, ভুল হয়েছে অনেক। বিশেষ করে বোলারদের শিখতে হবে কীভাবে রান আটকে রাখতে হয় আর সুযোগ এলে কীভাবে উইকেট তুলে নিতে হয়। তবে ভুলের এই তালিকায় সব বোলারেরই নাম থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।

গোড়া থেকে ধরলে বাংলাদেশের প্রথম ভুল ছিল পিচটা ঠিকমতো পড়তে না পারা। মাঠের আগের রেকর্ড দেখে সাজানো হয়েছিল স্পিননির্ভর দল, অথচ পাঁচ দিনের কোনো দিনই স্পিনাররা তেমন টার্ন পাননি। পিচ তাঁদের পাশে দাঁড়ায়নি অথচ গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বোলিংয়ের আসল ভরসা পেসাররাই। দেশের মাটি হোক, পাকিস্তান হোক বা অস্ট্রেলিয়া, যেখানেই খেলেছেন, নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

আমিরাতের উইকেটের ইতিহাস স্পিনের কথা বললেও দলের উচিত ছিল নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখা। কিন্তু সেই পুরোনো মানসিকতা ছেড়ে বেরোনো গেল না, আর মাঠে গিয়ে ছবিটা হয়ে গেল পুরো উল্টো। প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেট গেল পেসারদের ঝুলিতে, স্পিনাররা পেলেন মাত্র একটি। দ্বিতীয় ইনিংসেও চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের আরও অন্তত ২০ ওভার আগে ডিক্লেয়ার করা দরকার ছিল। আবুধাবির পিচে ৪০০-র বেশি রান তাড়া করে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে ম্যাচ জেতার নজির প্রায় নেই বললেই চলে, তাই ঝুঁকিটা নেওয়াই যেত।

পিচের চরিত্রের কারণেই পেসাররা বাড়তি বল করার সুযোগ পেয়েছেন। নাঈম সেখানে ছিলেন তৃতীয় স্পিনার, আর দলে যখন অভিজ্ঞ তাইজুল ও মিরাজের মতো দুজন মূল ভরসা, তখন পুরো দায় একা নাঈমের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। একটা ম্যাচ দিয়ে কোনো বোলারের বিচার হয় না। পরিসংখ্যানও তাঁর পক্ষেই কথা বলে। সবশেষ যে টেস্টে খেলেছেন সেখানে তিনি তিন উইকেট পেয়েছিলেন, তার আগের টেস্টে ছয়টি। সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়তো এটাই যে আট বছরের ক্যারিয়ারে খেলেছেন মাত্র ১৫টি টেস্ট। দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট সুযোগ না দিয়েই তাঁকে দোষী করা যায় না।

চার সেশনের বেশি সময় হাতে পেয়েও প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে না পারা বোলারদের সম্মিলিত ব্যর্থতা। অবশ্য আফগানিস্তান যে শুরু থেকেই ড্রয়ের জন্য খেলছিল, সেটা অধিনায়ক আর টিম ম্যানেজমেন্টের না বোঝার কথা নয়। সেই হিসাব মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজানোটাই ছিল জরুরি।

ফিল্ডিংও বাংলাদেশকে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে। হাফ চান্স থেকে একটা উইকেট এলে যেমন পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়, তেমনি সহজ সুযোগ হাতছাড়া হলে মনোযোগ আর আত্মবিশ্বাস দুটোই নড়ে যায়।

টেস্ট ক্রিকেট যুগ যুগ ধরেই মনস্ত্বাত্বিক খেলা। অধিনায়কের সিদ্ধান্ত আর পরিস্থিতি বুঝে এগোনোর ক্ষমতা সেখানে অনেক কিছু বদলে দেয়, আর এই মানসিক লড়াইয়ে যারা জেতে, দিনের শেষে তাদের পরিকল্পনাই সফল হয়।

Share via
Copy link