বয়স বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁদের সামনে আর খুব দিন নেই। বিদায়ের আলোচনা চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা আছে।
এবার সেই আলোচনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন বিসিসিআই সভাপতি মিথুন মানহাস। জানিয়ে দিলেন, কোহলি ও রোহিতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বয়স নয়, গুরুত্ব পাওয়া উচিত ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের।
টেস্ট ক্রিকেট থেকে ২০২৫ সালে অবসর নিয়েছেন কোহলি ও রোহিত। তার আগেই ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানিয়েছিলেন দুজন। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁদের এখন একমাত্র ভরসা ওয়ানডে। আর এই ফরম্যাটেই ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছেন দুই তারকা।
কিন্তু তখন তাঁদের বয়স কত হবে, সেই প্রশ্ন উঠছে বারবার। ২০২৭ সালের ৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ওয়ানডে বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ৪০ বছরে পা দেবেন রোহিত। আর বিশ্বকাপ চলাকালীন ৩৯ বছর পূর্ণ হবে কোহলির। বয়সের হিসাব সামনে রেখে অনেকেই তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দিয়ে সেই প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন দুই ব্যাটারই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে কোহলির ব্যাট থেকে এসেছে অপরাজিত ১৩৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। পিছিয়ে ছিলেন না রোহিতও। গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭৫ বলে ১০১ রান করার পর চন্ডিগড়ে শেষ ম্যাচে ৮৫ বলে খেলেছেন ৯২ রানের ইনিংস। তিন ম্যাচের সিরিজে তাঁর মোট সংগ্রহ ২২৫ রান।
এমন পারফরম্যান্সের পর কোহলি-রোহিতকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মানহাসের বক্তব্যও বেশ স্পষ্ট। স্পোর্টস্টার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিসিসিআই সভাপতি বলেন, দল নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচক ও কোচদের এখতিয়ার। তবে তাঁর ব্যক্তিগত মত, ক্রিকেটার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বয়সকে মাপকাঠি করা উচিত নয়।
মানহাস বলেন, ‘বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য করার জায়গা নেই। কারণ, সিদ্ধান্ত নেবেন নির্বাচক ও কোচরা। তবে আমার দৃষ্টিতে, নির্বাচনের মাপকাঠি হওয়া উচিত ফিটনেস ও পারফরম্যান্স, কোনোভাবেই বয়স নয়। কোনো ক্রিকেটার যদি খেলার জন্য ফিট থাকেন, পারফর্ম করেন এবং দেশের হয়ে ম্যাচ জেতান, তাহলে সেটাই হওয়া উচিত বিবেচনার প্রধান বিষয়।’
চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞতাই কাজে লাগে বলে মত দিলেন বিসিসিআই সভাপতি। তাঁর মতে, কোহলি, রোহিত ও হার্দিক পান্ডিয়ার মতো ক্রিকেটাররা গিলকে নেতৃত্বের চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারেন। মানহাস বলেন, ‘দলে বিরাট, হার্দিক ও রোহিত থাকলে তা অবশ্যই অধিনায়ক গিলকে সাহায্য করবে। বুমরার মতো ক্রিকেটারও আছে, যে নেতৃত্ব দিতে পারে, বোলিং ইউনিটকে পথ দেখাতে পারে। আবার ফিল্ডিংয়ের দায়িত্ব সামলানোর জন্যও কেউ থাকতে পারে।’

তবে কোহলি ও রোহিতের বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ভারতের নির্বাচক প্যানেলেও পরিবর্তন এসেছে। অজিত আগরকরের প্রধান নির্বাচক হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছে ৪ অক্টোবর। আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সাবেক স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা। স্থায়ী প্রধান নির্বাচক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রোহিতকে রাখছেন না নির্বাচকেরা। কিন্তু সিরিজে সুযোগ পেয়ে পরপর দুই ম্যাচে ১০১ ও ৯২ রানের ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ভারতীয় ওপেনার।
সব মিলিয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে কোহলি ও রোহিতকে ঘিরে আলোচনা যে থামছে না, তা স্পষ্ট। বয়স তাঁদের পক্ষে কথা বলছে না ঠিকই, কিন্তু ব্যাট হাতে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুবই আশাব্যঞ্জক। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের দলে জায়গা হবে কি না, তার উত্তর দেবেন ভারতের নির্বাচকেরা।










