এক তীর্থ যাত্রা শেষে পথিক যেন পৌঁছেছে তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। ছোট্ট গঢ়নের ভরসার পাত্র। তাকে নিয়ে কত আয়োজন, কত আনন্দ। মুশফিকুর রহিম নাম তুলে ফেলেছেন এক ইতিহাসের পাতায়। ৮৪তম খেলোয়াড় হিসেবে শততম পদার্পণ তার বনেদী পোশাক গায়ে, শুভ্রতার সুবাসে জড়িয়ে।
মুশফিকের এই শততম টেস্ট কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? এটা কি কেবলই এক ব্যক্তিগত মাইলফলক? মোটেও না, এটা দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। বাংলার কাঁদামাটির লোকশিল্প। কত ক্রোর হাটলে পরে পথিক হওয়া যায়, সেই অনুসন্ধানের উপসংহার। বাংলাদেশের ক্রিকেটের নকশিকাঁথায় বর্ণিল এক অধ্যায়।
মুশফিকের এই মাইলফলক স্পর্শ করা ঠিক কতবড় অর্জন? এটা আন্দাজ করতে একটা সহজ সাধারণ, তথ্য-উপাত্তই যথেষ্ট। তিনি যে বাংলাদেশের প্রথম! তার সাথে একই সময়ে টেস্টের ভুবনে হাজির হয়েছিলেন যারা, তারা সবাই আজ ভ্রমাণ্ডের ঘূর্ণনে ছিটকে গেছেন বহুদূর। তবে মুশফিক দিব্বি টিকে গেছেন।

এই যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা ধরা হয় সাকিব আল হাসানকে, যদিও তিনি এক বিতর্কিত চরিত্র। সেই সাকিব টেস্ট খেলেছেন মোটে ৭১টি। অন্যদিকে আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র তামিম ইকবাল খান, তিনি টেস্ট খেলতে পেরেছেন ৭০টি। অথচ, সাকিবের টেস্ট অভিষেকের আগে, মুশফিক টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন মোটে একটি। তামিমের টেস্ট অভিষেকের আগে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল পাঁচটিতে।
অর্থাৎ সাকিব-তামিমের সাথে দূরত্বটা খুব বেশি ছিল না মুশফিকের। তবুও তাদেরকে পেছনে ফেলে তিনি এগিয়ে গেছেন অনন্য মাইলফলকের দিকে। কিভাবে? একাগ্রতা, পরিশ্রম আর প্রবল ইচ্ছে শক্তির বলে। তামিম ইকবাল ছিলেন ওপেনার। তার তেমন আর কোন দায়িত্ব ছিল না সেই অর্থে। কিন্তু মুশফিক উইকেটে পেছেনে দাঁড়িয়েও টেস্ট খেলেছেন ৫৫টি।
তবুও ইনজুরি তাকে দমাতে পারেনি। অফফর্ম প্রতিবন্ধকতা হয়েছে, তবে অবরুদ্ধ করতে পারেনি মুশফিককে। ২০০৫ সালে লর্ডসের বুকে অভিষেকের পর তিনি স্রেফ টেস্ট ক্রিকেটের যাযাবর হয়ে কতশত স্টেডিয়ামে দিয়েছেন নিজের পদধূলি, তার কোন ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সব পাখিই তো নীড়ে ফেরে, মুশফিকও ফিরলেন। শততম টেস্টের স্মৃতিতে জড়িয়ে রাখলেন নিজের ঘরের মাঠকে। হোম অব ক্রিকেট থেকে শুরু, শততম টেস্টের চূড়া স্পর্শ করলেন তিনি টাইগার ক্রিকেটের হোম অব ক্রিকেটে।












