মাঠ বদলায়, প্রতিপক্ষ বদলায়, বদলায় না স্রেফ শ্রেয়াস আইয়ার। ধারাবাহিকতার ধ্রুব মূর্তি হয়ে উঠেছেন তিনি। ভারতের চার নম্বর পজিশনটা রীতিমত নিজের কুক্ষিগত করে ফেলেছেন আইয়ার। ঠিক এ কারণেই সম্ভবত তাকে দলে নিতে রীতিমত কথার দ্বন্দে লিপ্ত হয়েছেন অধিনায়ক রোহিত ও হেডকোচ গৌতম গম্ভীর।
চিরপ্রতিদ্বন্দী পাকিস্তানের বিপক্ষেও শ্রেয়াসের রানের ধারা রয়েছে চলমান। বাইশ গজে নেমে নিদেনপক্ষে পঞ্চাশ রান তিনি করবেনই করবেন। শেষ পাঁচ ইনিংসের মধ্যে তিনটিতে তিনি তুলে নিয়েছেন হাফসেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২১তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি।
সেই ২০২২ সাল থেকেই রানের এক নিজস্ব ধারা বইছে শ্রেয়াসের ব্যাট থেকে। রঙিন পোশাকের দীর্ঘ ফরম্যাটে তিনি ভারতের আস্থার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন। নিজেই বরং সেই জায়গাটা তৈরি করে নিয়েছেন। ২০২২ সালে ১৫ ইনিংসে ৭২৪ রান করেছেন ৫৫.৬৯ গড়ে।

এর পরের বছর ১৯ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৮৪৬ রান। গড় তখন ছিল তার প্রায় ৫৩। ২০২৪ সালে সেই অর্থে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলেননি তিনি। এই বছর এখন অবধি পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন। এই বছরে তার গড় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬১.২৫। ২৪৫ রান নিজের নামের পাশে যুক্ত করে ফেলেছেন। ফর্মের তুঙ্গে থেকেই প্রবেশ করেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে না পারলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঠিকই কাজের কাজটা করে দিয়ে গেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ভারতের জয়ের রাস্তাকে মসৃণ করে দিয়ে গেছেন তিনি। খেলেছন ৬৭ বলে ৫৬ রানের ইনিংস। পাঁচটি চারের বিপক্ষে একটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। সেই ছক্কাও গিয়ে পড়েছে গ্যালারিতে, বাইশ গজ থেকে দূরত্ব ছিল ১০২ মিটার।
স্ট্রাইকরেটও শ্রেয়াসের এক বিশেষত্ব বটে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৬২ ইনিংসে ব্যাট করেছেন শ্রেয়াস আইয়ার। এই সময়ে তিনি ১০১ এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ব্যাট চালিয়েছেন। আধুনা ওয়ানডে ক্রিকেটে মেজাজ বুঝে নিজের ইনিংস গড়তে পটু। এমনকি চার নম্বরে পজিশনেও তার রানের অবারিত ধারা বহমান।

প্রায় ৫৩ গড়ে তিনি ১৬৪২ রান করেছেন চার নম্বর পজিশনে। এমন একজন ব্যাটার ভারতের মিডল অর্ডারকে দিচ্ছে স্থিতিশীলতা। পরিস্থিতির চাহিদা মেনে দ্রুতগতির ইনিংস খেলতে জানেন, সেই সাথে ব্যাটিং অর্ডারের হাল ধরার কাজটাও সমান্তরালভাবে চালিয়ে যেতে পারেন। তাকে দলে নিতেই তো লড়াই হওয়া মানায়।











