দ্বন্দ সব মিথ্যে, সৌহার্দ্যই আসল সত্য

কেউ কেউ সেসবকে টেনে নিয়ে আসে সবুজ সজীবতায়, কলুষিত করতে চায়, ছড়িয়ে দিতে চায় কালিমা। কিন্তু বারে বারে এই দুই দেশের ক্রিকেটাররা প্রমাণ করেন- যা কিছু দ্বন্দ, তার সবই লোকমুখে।

বাবর আজম এসে হাত মেলালেন। শাহীন আফ্রিদি এসে বুকে টেনে নিলেন। না, বিদ্বেষ সব মিথ্যে। ভালবাসার গল্পটাই মূখ্য। ভারত-পাকিস্তান শুধুই বন্ধু। বাকি সব মিথ্যা।

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে খবরের কলামে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কত কথাই তো হয়! দুই দেশের কাঁটাতারে লেপ্টে আছে হাজারও লড়াইয়ের গল্প। কেউ কেউ সেসবকে টেনে নিয়ে আসে সবুজ সজীবতায়, কলুষিত করতে চায়, ছড়িয়ে দিতে চায় কালিমা। কিন্তু বারে বারে এই দুই দেশের ক্রিকেটাররা প্রমাণ করেন- যা কিছু দ্বন্দ, তার সবই লোকমুখে।

তাইতো বিরাট কোহলি সেঞ্চুরি করার পরও প্রথম অভিবাদনটা আসে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কাছ থেকে। যার সাথে তূলনার অবান্তর সংঘর্ষ চলে, সেই বাবর আজমও হাত মিলিয়ে বলে ওঠে ‘সাবাস’। ক্রিকেট মাঠে নেই কোন বিদ্বেষ। এখানে দিনশেষে খেলোয়াড়ের সক্ষমতা জিতে যায়। জয় পায় অপ্রতিরোধ্য মানসিকতা।

এখানে সীমানায় ফেলা দুই দেশের গোলার গুরুত্ব শূন্যের কাছাকাছি। হাসিমাখা মুখে পাকিস্তান অবশ্য ভারতকে বিদায় জানায়নি। জানাবে কি করে, ম্যাচটা যে তারা হেরেছে। স্বাগতিক হয়েও তাদেরকে ছিটকে যেতে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বৈশ্বিক মঞ্চ থেকে।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়েও টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া প্রথম দলের খেতাব মিলছে। সেমিফাইনালের যাওয়ার রাস্তা যে অতীব সংকীর্ণ। তবুও মনের হাজার কষ্ট পাথর চাপা দিয়ে তারা হাতমেলায়। ক্রিকেটের ময়দানের মাহাত্ম্য তো এটাই। কথার লড়াই ছাপিয়ে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দির মেলবন্ধন ঘটায়।

টুর্নামেন্টের আগেও ভারত-পাকিস্তান কথার বিষাক্ত তীর ছুড়েছে একে অপরের দিকে। কিন্তু ময়দানে নামা মাত্রই সব কোন্দল হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। খেলোয়াড়ের কাছে খেলার মাঠ লড়াইয়ের মঞ্চ বটে। তবে সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে আলিঙ্গন করতে দ্বিধা নেই কারও। পারস্পপারিক সম্মানের উষ্ণতার বলয়ে বাকি সব মিথ্যে, সব ডাহা মিথ্যে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link