একটা নক্ষত্র, তার আলো বিকিরণের সকল ইচ্ছেকে দমিয়ে দিলেন। ক্রিকেটের বনেদী ফরম্যাটের সফেদ যাত্রার সমাপ্তি টেনে দিলেন। বিরাট কোহলির বর্ণাঢ্য এক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটল। অবধারিত বিষয়টি অবশেষে বাস্তব বনে গেল।
অবশ্য নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার আলাপটা তিনি করে রেখেছিলেন আগেভাগেই। বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়াকে (বিসিসিআই) জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘অনেক তো হল, আর কত!’ নতুন টেস্ট চক্রে প্রবেশ করার আগেই বিরাট নিজের সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিকতাও শেষ করলেন।
বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় ছিল বিরাট কোহলির অবসর। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি থাকবেন কি-না, সে প্রশ্ন বারংবার ঘুরপাক খেয়েছে ক্রিকেট ভুবনে। রোহিত শর্মার পর তিনিই তো ছিলেন ভারত দলের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার।

বিরাট কিংবা রোহিতকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল না ভারতের। বিরাট খেলতে চাইলে হয়ত টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে ইংল্যান্ড সিরিজের দলেও রাখতেন। সেই সম্মানটুকু তো তার প্রাপ্য। বিরাট নিজেও জানেন লেবু বেশি কচলালে তা তেঁতো হয়ে যায়। তাই তিনি সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে থেকেই সাদা জার্সির মায়া ত্যাগ করলেন।
১২৩ ম্যাচের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিন্দুমাত্র কালিমার ছোঁয়া লাগার আগেই তো সরে যাওয়া ভাল। দশ হাজার রানের ক্লাবে ঢোকার সুযোগ ছিল। সেই সুযোগের হাতছানিকেও উপেক্ষা করলেন। ৩০ সেঞ্চুর আর ৩১ হাফসেঞ্চুরি এখন বিরাটের অবসর দিনের সম্বল, সাথে আছে ৯২৩০ রানের সেই সুখময় সকল স্মৃতি।
ক্রিকেট প্রেমীদের মনের গহীনে শূন্যতার হাহাকার সৃষ্টি করে রাজা জানিয়ে দিলেন বিদায়। ক্রিকেট ভুবনের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রদের একজন আর নতুন করে উন্মাদনায় মাতাবেন না। রাজসিক ভঙিমায় হাতে তরবারি, মাথায় মুকুট আর শরীরে শুভ্রতার ছোঁয়া মাখিয়ে বিরাট আর নামবেন না বাইশ গজে। এমন দিনগুলো কেন আসে?












