বনের বাঘ রোহিতের চিরচেনা ভয়কর রুপ

রোহিতও বোঝালেন জঙ্গলের সিংহদের খুব বেশি সুযোগ কখনোই দিতে নেই। দিলেই খেল খতম! 

আপনি রোহিত শর্মার ক্যাচ ফেলতে পারেন না। আর নকআউট ম্যাচে দুই দফা রোহিতের ক্যাচ ফেলে দেওয়া মানে নিজের জন্যে কুয়ো খোড়া। ঠিক সে কাজটাই করেছে গুজরাট টাইটান্স। আর এরপরই ‘হিটম্যান’ রোহিত শর্মা দেখালেন নিজের আসল রুপ।

শুরুতেই তাকে প্যাভিলিয়নে ফেরানোর সুযোগ ছিল গুজরাটের সামনে। প্রথম ক্যাচটা ছাড়লেন জেরাল্ড কোয়েৎজে। খুব বেশি ভয়ংকর হওয়ার আগেই আরও একবার গুজরাটকে সুযোগ দিলেন রোহিত। এদফা ক্যাচ ছুটল উইকেটরক্ষক কুশল মেন্ডিসের হাত থেকে।

এরপর আর রোহিতকে থামায় কে! তিনি ছুটলেন ঘোড়ার পিঠে চড়ে। তার হাতে থাকা ব্যাট বনে গেল এক রুঢ় চাবুক। বল আসে, বল যায়- মাঝে রানের ফোয়ারা বয়। বাউন্ডারির উৎসবে মেতে ওঠেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সমর্থকরা। সেই সাথে মুম্বাই পেয়ে যায় উড়ন্ত সূচনা।

যদিও সেই সূচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন জনি বেয়ারস্টো। রোহিত সেই আগ্রাসনকেই বরং এগিয়ে নিয়ে গেলেন। ১৬২ স্ট্রাইকরেটের একটা দারুণ কার্যকর ইনিংস এলো রোহিতের ব্যাট থেকে। নিজের পাওয়া দু’টো সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ৭০০০ রানের ক্লাবের প্রবেশ করেন তিনি।

এগিয়ে যাচ্ছিলেন শতকের দিকে। চার ছক্কা ও নয় চারে সাজানো ইনিংসটি ৮১ রান অবধি পৌঁছাতে পেরেছে। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার একটা স্লোয়ার বল ঠিকঠাক পড়তে পারলেন না। শট চালালেন শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়েই। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হল না, বল সোজা উঠে যায় আকাশ পানে।

এদফা অবশ্য রশিদ খান কোন ভুল করলেন না। তিনি বেশ দেখেশুনে ঠিকঠাক ক্যাচই লুফে নিলেন। তবে ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে গুজরাট টাইটান্সের জন্যে। ২০০ ছাড়ানো একটা সংগ্রহের শক্ত ভীত প্রস্তত হয়ে যায় মুম্বাইয়ের।

প্রথম এলিমিনেটর ম্যাচে রোহিতের মত একজন ব্যাটারের ক্যাচ ফেলে দেওয়ার নিদারুণ বাস্তবতা বুঝল গুজরাট। রোহিতও বোঝালেন জঙ্গলের সিংহদের খুব বেশি সুযোগ কখনোই দিতে নেই। দিলেই খেল খতম!

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link