মাইটি অজি থেকে আজকের অজেয় ভারত

কল্পনা করুন, পন্টিংয়ের সেই অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়ার যুগে যদি আজকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রমরমা থাকত, তবে পরিস্থিতি কেমন হতো? সম্ভবত নিউজফিড ভেসে যেত নানা কাল্পনিক তত্ত্বে। কেন কোনো দল অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়াতে পারছে না! এতে কী আইসিসির কোনো হাত আছে?

ক্রিকেট ইতিহাসে আধিপত্যের সংজ্ঞা একেক যুগে একেক রকম। ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করেছিল রিকি পন্টিংয়ের সেই অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়া। টানা তিনটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও দুটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের পাশাপাশি টানা দুই বিশ্বকাপে অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছিল তারা।

কল্পনা করুন, পন্টিংয়ের সেই অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়ার যুগে যদি আজকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রমরমা থাকত, তবে পরিস্থিতি কেমন হতো? সম্ভবত নিউজফিড ভেসে যেত নানা কাল্পনিক তত্ত্বে। কেন কোনো দল অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়াতে পারছে না! এতে কী আইসিসির কোনো হাত আছে?

কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না বলে মাঠের লড়াইটাই ছিল শেষ কথা। ফলে তাদের দাপট আজ কেবলই এক রূপকথার মর্যাদা পায়।

অস্ট্রেলিয়ার সেই রাজত্বের অবসানের পর বিশ্ব ক্রিকেটে শুরু হয় ভারতীয় ক্রিকেটের নবজাগরণ। ২০০৭ থেকে ২০১৩ – মহেন্দ্র সিং ধোনির জাদুকরী স্পর্শে ভারত ঘরে তোলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। কিন্তু গল্পের ট্র্যাজেডি শুরু হয় এরপর থেকেই। ২০১৩ পরবর্তী দীর্ঘ ১১ বছর ভারত বিশ্বমঞ্চে দাপট দেখালেও সেই দৌড় ছিল নক আউট অবধিই।

২০২৪ সাল থেকে যেন মহাকালের চাকা আবারো ঘুরে দাঁড়াল। দীর্ঘ ১১ বছরের খরা কাটিয়ে ভারত শুধু ফিরলই না, বরং টানা দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতে বিশ্ব শাসন শুরু করল। আর এই সাফল্যের সাথেই শুরু হলো বিভিন্ন নেতিবাচক ন্যারেটিভ।

বাস্তবতা কিন্তু পরিসংখ্যানের ভাষায় কথা বলে। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে গত পাঁচ বছরে ভারত মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে, তাও ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেই সিরিজেও ভারত পূর্ণশক্তির দল না খেলিয়ে বরং কোহলি-রোহিত-বুমরাহদের যোগ্য উত্তরসূরি খোঁজার পরীক্ষায় নেমেছিল। সেই পরীক্ষার ফল আজ হাতেনাতে। আজকের তরুণ তুর্কিরাই ভারতকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে।

​যদি আজ খবরের কাগজ পড়ার সেই পুরনো যুগ থাকত আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই ন্যারেটিভ তৈরির কারখানা না থাকত, তবে আগামীর প্রজন্ম ভারতের এই পরিসংখ্যান দেখে ঠিক একইভাবে শিহরিত হতো। পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়ার মতোই তারাও বিস্ময় নিয়ে বলত ‘দ্যা মাইটি ইন্ডিয়া’।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link