মারিয়া চারিয়োভা তুর্কমেনিস্তানের ১০ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। এরপর থেকেই তার শারীরিক গড়ন নিয়ে ট্রল হচ্ছে আমাদের দেশে, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ থেকে শুরু করে নোংরা দৃষ্টির শিকারও হতে হচ্ছে তাকে।
তবে এসব কিছু হয়তো গায়ে লাগান না মারিয়া। গায়ে লাগালে যে নিজের দেশের জার্সি পরে তাঁর আর মাঠে নামা হতো না। সমালোচনার মাঝে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের জালে গোল জড়ানো হতো না। তাই তো ফুটবল মাঠে তার উপস্থিতি প্রমাণ করে— হার না মানার মানসিকতা থাকলে কিছুই অসম্ভব নয়।
মারিয়ার শারীরিক গঠন ফুটবল খেলার জন্য আদর্শ নয়। তবে খেলোয়াড় হিসেবে খুব খারাপ বলার উপায় অবশ্য নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে যখন খেলেছেন, বল নিয়ে ছুটেছেন, ড্রিবল করেছেন, সতীর্থকে পাস দিয়েছেন। এর আগের ম্যাচেও বাহরাইনের বিপক্ষে গোল করেছেন।

তিনি তুর্কমেনিস্তান নারী ফুটসাল ক্লাব কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন, ১৮টি গোল করে নিজের দল আশগাবাতকে শিরোপা জিতিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মারিয়ার ফুটবল নৈপুণ্য দৃশ্যমান। তাই তো শারীরিক গড়নের বাইরে গেলে মারিয়ার খেলার মান নিয়ে সমালোচনার কিছু নেই। টেকনিক্যালি বেশ ভালোই খেলেন তিনি।
তার স্ট্যামিনা, ফুটবল সেন্স আর পজিশনিং অনেক স্লিম-ফিট প্লেয়ারের চেয়েও কার্যকর। স্পোর্টস মূলত পারফরম্যান্সনির্ভর। সেখানে শারীরিক গড়ন, রং, উচ্চতা— এগুলো কখনও বিচার্য হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এমন উদাহরণ অনেক আছে, যারা তথাকথিত ‘স্পোর্টস বডি’র বাইরে থেকেও ইতিহাস গড়েছেন। মারিয়া চারিয়োভা প্রচলিত সৌন্দর্যবোধ আর গড়নের ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রমাণ করছেন— খেলোয়াড় হতে গেলে শুধু ফিটনেস নয়, লাগে আত্মবিশ্বাস, আর হার না মানা মনোভাব।

খারাপ খেললে পারফরম্যান্সের সমালোচনা করা যেতেই পারে, কোয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। তবে যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চা হচ্ছে তার সাথে খেলার কোনো সম্পর্ক নেই, সম্পর্কটা আছে নোংরা মানসিকতার সাথে। সবশেষে তাই একটা কথায় বলা যায়, খেলোয়াড়কে খেলায় বিচার করুন, শারীরিক গঠনে নয়।











