রিভার্স সুইপ, লফটেড কাভার ড্রাইভ, লিটন দাসের আকাঙ্ক্ষিত ব্যাটিং! দৃষ্টিনন্দন, চোখ জুড়ানো লিটনে ব্যাটিং পরিণত হয়েছিল অমাবস্যার চাঁদ। তবে ঘোর অন্ধকার কেটে গিয়ে যেন ফিরছে সুদিনের সুপ্রভাত। জাগালেন আসা, বাড়ালেন ভরসা। ফর্মে থাকা লিটন যেন পরম আস্থা।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নানন্দিক আগ্রাসনে নিজের প্রত্যাবর্তনের বার্তা দিলেন লিটন। ধুন্ধুমার ব্যাটিং, অযথা ঝুঁকিহীন ব্যকরণিক ব্যাটিং। মন্ত্রমুগ্ধের মত স্রেফ উপভোগ করা যায়। এমন ব্যাটিংয়ের প্রত্যাশা তো তার কাছ থেকেই করা যায়! কালেভদ্রে তিনি প্রত্যাশা মিটিয়েছেন, কিন্তু ধারাবাহিকতার যে বড্ড অভাব!
কিন্তু আশার নতুন প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলেন লিটন দাস। প্রায় ১৮৭ স্ট্রাইকরেটের এক দূর্দান্ত ইনিংস। দৃষ্টিনন্দন সব বাউন্ডারি হাঁকানো শট। রিভার্স সুইপে ছক্কার পর, ফ্লিকেও হাঁকিয়েছেন ছয়। আরও ছয়টি বাউন্ডারি আদায় করেছেন তিনি উইকেটের চারিদিকে। রিভার্সের সুইপের পর তার মুখের হাসিই বলে দিচ্ছে, লিটন উপভোগ করছেন তার ব্যাটিং।

সেই উপভোগের রথে চেপে স্রেফ ২৯ বলে ৫৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলে গেলেন লিটন দাস। শুধু যে নিজের নামের পাশে রান যুক্ত করেই ক্ষান্ত থেকেছেন তিনি, তা কিন্তু নয়। একেবারে শেষ অবধি দলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। অপরাজিত এই ইনিংসে তিনি অধিনায়কের মান রাখলেন যেন।
একেবারে এফোর্টলেস ব্যাটিং। বাড়তি কোন কিছু করার চেষ্টা করেননি। স্রেফ নিজের স্বভাবজাত ভঙ্গিমায় ব্যাটিংটা চালিয়ে গেছেন। তাতেই রান এসেছে চেখে দেখেছে লিটনের চরণধূলি। এশিয়া কাপের আগে লিটনের এমন ব্যাটিং বাংলাদেশের জন্যে ইতিবাচক। নিজের দিনে তিনি একাই যে গড়ে দিতে পারেন যে কোন ম্যাচের ভাগ্য।
লিটনের নেতৃত্বে এশিয়া কাপে শিরোপার অন্বেষণ চালাবে টাইগাররা। দলনেতা অফফর্ম গোটা দলেই ছড়াতো নেতিবাচকতা। কিন্তু নিজের সামর্থ্য আর ক্যালিভারের প্রদর্শন ঘটিয়ে লিটন যেন বলতে চাইলেন, ‘চল দেখি কি হয়!’












