৩০৪ রান! তাও আবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে! প্রলয়ংকারী হারিকেন বয়ে গেল ম্যানচেস্টারের উপর দিয়ে। ঘরের ছেলেদের সৃষ্ট ব্যাটিং ঝড় আনন্দের হিল্লোল বয়ে নিয়ে এলো। রেকর্ড বইয়ে ইংল্যান্ডের নতুন রেকর্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের তাণ্ডবে যেন রক্ষা পেল বাংলাদেশ।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংরেজ ব্যাটাররা তাণ্ডবলীলায় মত্ত্ব হলেন বাইশ গজে। জশ বাটলার থেকে শুরু, ফিল সল্টের হাতে লেখা হল নব্য ইতিহাস। টেস্ট খেলুড়ে দুই দেশের লড়াইয়ে এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হল ৩০০ রান। প্রোটিয়া বোলারদের অসহায়ত্ব আর হতাশ মুখশ্রী বরং বাড়তি আনন্দ দিয়েছে মাঠভর্তি ইংরেজ দর্শকদের।
বল আসে বল চলে যায় বাউন্ডারির ওপারে। মাঝামাঝি কোন কিছুই ছিল না ইংল্যান্ডের ইনিংসে। প্রথমে জশ বাটলার মাত্র ১৮ বলে ছাড়ালেন হাফসেঞ্চুরি মাইলফলক। ফিল সল্ট যেন আরেক কাঠি সরেশ। তিনি ছাপিয়ে গেলেন নিজেকেই। ইংল্যান্ডের জার্সিতে আরও একটি শতক তুলে নিলেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

এমনকি ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিকও এখন ফিল সল্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬০ বলে করেছেন ১৪১ রান। ২৩৫ স্ট্রাইকরেটে ইনিংসটিই বরং ইতিহাসের পথে এগিয়ে দিয়েছে ইংরেজদের। যার গোড়াপত্তন করে গিয়েছিলেন জশ বাটলার ৩০ বলে ৮৩ রান করে। বাটলারের মারমুখি ইনিংসের স্ট্রাইকরেট ছিল প্রায় ২৭৭!
পরের ব্যাটাররা স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে চালিয়েছেন ব্যাট। হ্যারি ব্রুকও শেষ অবধি যুক্ত হন ধ্বংসলীলায়। ২১ বলে ৪১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে রান উঠেছে ৩০৪। এর আগে দুই টেস্ট খেলুড়ে দলের টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে সর্বোচ্চ ছিল ২৯৭। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত করেছিল সে রান। তাইতো ইংল্যান্ডের কল্যাণে বাংলাদেশ পেল স্বস্তি। লজ্জার রেকর্ডে এখন বাংলাদেশের উপরে দক্ষিণ আফ্রিকার স্থান।
ইংল্যান্ডের চার ব্যাটার মিলে ১৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ৩০টি চারের মারও মেরেছেন জশ বাটলার ও ফিল সল্টরা। সল্টের একারই চার ১৫টি। ঠিক কতটা বিধ্বংসী হলে এমন অসাধ্য সাধন করা যায়! অবশ্য প্রোটিয়াদের এমন বেধম প্রহারের শিকার এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২৮৩ রান হজম করার স্মৃতি এখনও হয়ে যায়নি মলিন। এই ম্যাচ জেতা প্রায় অসম্ভব বটে। কিন্তু জিতে গেলে তা হবে রীতিমত অকল্পনীয়।












