চওড়া কাঁধ, বাঁ হাতের ব্যাট ঝুলছে কোনো বারুদবাজ বন্দুকের মতো, চোখে ঠাণ্ডা আত্মবিশ্বাস। হ্যাঁ, অভিষেক শর্মা আসছেন। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ একেকটা স্টেটমেন্ট, প্রতিটা চাহনি যেন কৌশলের প্রতিফলন। মহাপ্রলয়ের তিনি নটরাজ, তিনি সাইক্লোন, তিনি ধ্বংস।
অভিষেক শর্মা অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল, তিনি ভেঙে করেন সব চুরমার। এটাই অভিষেকের স্বাভাবিক চলন। ছোট, কিন্তু চটপটে; যেন স্ট্রিট ফাইটারের কোনো চরিত্র। তাঁর চারপাশে দুনিয়া আধুনিক ক্রিকেটের জন্য নির্মিত—দূরদর্শী, সজীব এবং ক্ষুধার্ত। যেন ব্যাট হাতে ফিরে এসেছেন যুবরাজ সিং, আরও দুর্নিবীত ও নৃশংস হয়ে।
যুবরাজ সিং বিদায় বলেছেন, তৈরি করে গেছেন অভিষেক শর্মাকে। ভারতের ক্রিকেট ভবিষ্যত অভিষেক শর্মাকে বলা যায় ভারতের জন্য যুবরাজের উপহার। নিজের হাতে তিলে তিলে তিনি গড়ে তুলেছেন অভিষেককে। প্রকৃতিপ্রদত্ত প্রতিভা আর শারীরিক সক্ষমতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন যুবরাজ সিং।

দু’বার দুই ফরম্যাটের বিশ্বকাপ জেতা এই কিংবদন্তি অভিষেককে নিজের ছায়ায় নিয়েছিলেন, তাঁর মাঝেই নিজের ছায়া খুঁজেছিলেন। শিখিয়েছেন, ‘ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলো। ম্যাচ জেতাও, দলে তোমার যা ভূমিকা সেটা পালন করো। এখানে নিজের জন্য খেলার কোনো সুযোগ নেই।’
অভিষেকের ছয় মারার ক্ষমতা অস্বাভাবিক। প্রথম বলেই শাহীন আফ্রিদি ছক্কা হাকাতে তাঁর কোনো দ্বিতীয় চিন্তা মাথায় আসে না। কারণ যুবরাজ শিখিয়ে গেছেন, ‘যেখানে পাওয়ার আছে, সেখানেই হাঁকাও।’
অভিষেকের বাবা রাজকুমার শর্মা যেমন বলেই দিলেন, ‘ছয় মারার ক্ষমতা ঈশ্বর প্রদত্ত। তাঁর চোখ অসাধারণ, বলের লাইন ও দৈর্ঘ্য ধরতে সক্ষম, অন্য ব্যাটারদের চেয়ে কয়েক সেকেন্ড আগে। সেই কারণেই ছয়গুলো এত সুন্দরভাবে বের হয়।’

আর বড় বড় সব ছক্কা হাকানোর মনোযোগটা তাঁর মধ্যে আনেন যুবরাজ সিং। রাজকুমার শর্মা বলেন, ‘যুবরাজ সিং অভিষেকের খেলায় বিপুল পরিবর্তন এনেছেন। তিনি সবসময় অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। একজন খেলোয়াড় যার হাতে দুই বিশ্বকাপ, যদি তিনি দিকনির্দেশনা দেন, তাহলে সেটা আলাদা হবেই।’
‘আলাদা’ সেই শিক্ষাতেই বিশ্বসেরা হয়ে উঠছেন অভিষেক। মাথার ঘাম ঝরিয়েছেন অভিষেক। ২০১৮ সালে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন। প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে নেন আইপিএলকে। দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে অভিষেক, পরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে ফুল হয়ে ওঠেন।
আসলে ফুল নয়, ফায়ার হয়ে ফোটেন অভিষেক। ২০২৪ আইপিএলে এই ওপেনারের স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৪.২১! সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে নায়কোচিত ইনিংস বলে দেয় আন্তর্জাতিক মঞ্চ যেন তার জন্য ঠিক মতোই তৈরি আছে।











