সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে আগেও হারিয়েছে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের দূর্বলতা অনুযায়ী সাজাতে হবে পরিকল্পনা। নিকট অতীতের ইতিহাস রয়েছে টাইগারদের পক্ষে। এখন স্রেফ দিনটাকে নিজেদের করে নিতে পারলেই হয়। 

একটা অঘোষিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ভারত ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পরও বাংলাদেশের সামনে রয়েছে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার অপার সম্ভাবনা। পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই মিলবে ফাইনালের টিকিট। অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়েছে নিকট অতীতে এমন প্রতিবন্ধকতা টপকানোর ইতিহাস।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরাজয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবেই শ্রীলঙ্কা বাদ পড়েছে এশিয়া কাপের এবারের আসর থেকে। অন্যদিকে ভারত পৌঁছে গেছে ফাইনালে। তাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার সুযোগ এখন কেবল রয়েছে দুই দলের- বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

দুই ম্যাচ খেলে এই দুই দলের পয়েন্ট সমান দুই। অর্থাৎ যে দলই জিতবে তারা চলে যাবে ফাইনালে। একেবারে পানির মত সরল সমীকরণ। কোন মারপ্যাঁচ নেই, কোন ঝামেলা নেই। রান রেটের হিসেব কষতেও বসতে হচ্ছে না এদফা। বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন, তবে অসাধ্য নয়। এর আগেও দুইবার এমন পরিস্থিতি টপকেছে বাংলাদেশ।

২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে, পাকিস্তানকে পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের কল্যাণেই বাংলাদেশ সেই আসরের ফাইনাল খেলেছিল। ওই আসরেও যদিও পরিস্থিতি এমন ছিল না। বাংলাদেশের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়ার আগে পাকিস্তানের হাতে ছিল দুই ম্যাচ। তাদের ছয় পয়েন্ট পাওয়া সুযোগ ছিল।

অন্যদিকে বাংলাদেশকে হারাতে হতো পাকিস্তানকে ছয় পয়েন্ট পাওয়ার জন্যে। আর ছয় পয়েন্ট পেয়েই বাংলাদেশ উঠেছিল ফাইনালে। এক ম্যাচ হাতে থাকার পরও ছিটকে যায় পাকিস্তান। সেই মোকেবালায় সরফরাজ আহমেদের ৫৮ রানের সুবাদে স্কোরবোর্ডে ১২৯ রান অবধি তুলেছিল পাকিস্তান। জবাবে সৌম্য সরকারের ৪৮ রানের উপর ভর করে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

তবে এবারের মত ঠিক একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল ২০১৮ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপে। সেবার দুই দল সুপার ফোরে নিজেদের শেষ ম্যাচে হয়েছিল মুখোমুখি। তখন দুই দলের পয়েন্টই ছিল সমান দুই করে। ভারত আগেই নিশ্চিত করে ফেলে ফাইনালের টিকিট। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে যে দল জিতবে তারাই হবে ভারতের সঙ্গী।

এমন সরল সমীকরণের ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে তোলে সব উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান। মুশফিকুর রহিমের ৯৯ ছাড়াও, সেদিন মোহাম্মদ মিঠুন ৬০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং তোপের সামনে আর জয় ভাগ্য পাকিস্তান হয়নি। ফিজ একাই নিয়েছিলেন চার উইকেট। ৩৭ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ দল।

এবারও সেই একই পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে, বাংলাদেশ ম্যাচ জেতার ছক কষছে বটে। এদফা ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছে। তবে সে জন্য পাকিস্তানের দূর্বলতা অনুযায়ী সাজাতে হবে পরিকল্পনা। পাকিস্তানকে একটা ইউনিট হিসেবে খেলতে দেখা যায়নি এবারের এশিয়া কাপে।

ব্যাটিং ইউনিট ব্যর্থতার দিন পার করছে। অন্যদিকে বোলিং আক্রমণে আজ হারসি রউফ ও কাল শাহিন শাহ আফ্রিদি পারফরম করছেন। এই দিকগুলোর বিরুদ্ধে সঠিক পরিকল্পনা ও মাঠে বাস্তবায়নে মিলবে ফাইনালে খেলার সুযোগ। নিকট অতীতের ইতিহাস রয়েছে টাইগারদের পক্ষে। এখন স্রেফ দিনটাকে নিজেদের করে নিতে পারলেই হয়।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link