নির্ভার পাকিস্তান, ঠিক কত রানের লিড তারা পাবে সে ভাবনাতেই ছিল। ২৩৫ রান তুলতেই তো দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়ে ফেলেছিলে আটটি উইকেট। কিন্তু পাকিস্তানের স্বস্তি কেড়ে নিলেন এক কাগিসো রাবাদা। সব ধরণের ক্রিকেটে নিজের প্রথম ফিফটি তুলে নেন রাবাদা। পাকিস্তানকে ভাসান বেদনার নোনা জলে।
তার প্রতিরোধের সামনে রীতিমত অসহায় হয়ে যায় পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ। কাগিসো রাবাদা যেন ব্রত নিয়েই হাজির হয়েছিলেন বাইশ গজে, নিজেকে প্রমাণ করবেন ব্যাটার হিসেবে। সেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে শুরু, এরপর থেকে স্রেফ তার বোলিংয়েরই স্তুতিগাঁথা গেয়েছে সকলে। দুর্ধর্ষ বোলার বলে বন্দনার সফেদ চাদরে মুড়িয়েছেন তাকে।
কিন্তু কেউ কি ঘুনাক্ষরেও টের পেয়েছিল- রাবাদা ব্যাট হাতে হতে পারে এতটাও দৃঢ়? নিজের নতুন সত্ত্বার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন তিনি। ব্যাটার হিসেবে টেস্টের অধিকাংশ ইনিংসেই এক অঙ্কের ঘরে আউট হয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটির আগে টেস্টে তার সর্বোচ্চ ৪৭ রান একবার নিতে পেরেছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি সেদিন অর্ধশত রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। এরপর হয়ত তিনি আর আশাও করেননি। তার দলের ব্যাটারদের সক্ষমতা তাকে কখনো দুশ্চিন্তায় ফেলেনি। তাইতো ব্যাটিং নিয়ে বাড়তি ভাবতে হয়নি তাকে। তবে দলের বিপদের দিনে তিনি ঠিকই ব্যাটকে ঢাল বানিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন পাকিস্তানের সামনে।
বেশ হনহন করা হাঁটার গতিতে কাগিসো রাবাদা হাটতে থাকেন নিজের ব্যক্তিগত প্রথম ও একমাত্র শতকের দিকে। সেই যাত্রায় যে তিনি নিজের অর্ধশতক না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়ে ফেলেছেন, সেদিকটা হয়ত বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন। অপরপ্রান্তে থাকা সেনুরান মুত্তুসামি অবশ্য আরেক দূর্গ হয়ে রাবাদাকে ভরসা জুগিয়ে যাচ্ছিলেন। দশম উইকেটে এই দুইজন মিলে জমা করেন ৯৮টি মহাগুরুত্বপূর্ণ রান।
সমান চারটি করে চার-ছক্কায় রাবাদা খেলে ফেলেন নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটি। ৬১ বলে ৭১ রান করে থামেন তিনি আসিফ আফ্রিদির উইকেট হিসেবে। কিন্তু ততক্ষণে তার ওই ইনিংসটি ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল পাকিস্তানকে। যে স্বস্তির স্বপ্ন বুনেছিল পাকিস্তান সেটাকে রাবাদা দুমড়ে-মুচড়ে বিপর্যস্ত করে দেন স্বাগতিকদের সমস্ত মানসিকতা। এটাই তো বরং ক্রিকেটের সৌন্দর্য, এটাই তো টেস্ট ক্রিকেটের মাহাত্ম্য।












