হন্যে হয়ে একজন ব্যাটিং কোচ খুঁজছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যে দলের মাঝের অর্ডারে ছড়ানো অনিশ্চয়তা, ওপেনারদের মাঝে ভরসার অভাব—সেখানে নতুন এক ‘ব্যাটিং মেন্টর’ যেন এখন জরুরি হয়ে পড়েছে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের মত। এই সন্ধানেই বোর্ড ঘুরছে চারদিক, আর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন দুটি নাম—অস্ট্রেলিয়ার ব্র্যাড হজ ও বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল।
দু’জনের পথ আলাদা, গল্পও আলাদা। হজ—যিনি একসময় বিগ ব্যাশে ছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের গ্রেট, বিশ্বব্যাপী প্রায় সব জায়গাতেই খেলেছেন। তবুও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে জায়গা পাননি রিকি পন্টিং, ডেমিয়েন মার্টিন, মাইকেল ক্লার্কদের ছায়ায়। অন্যদিকে আশরাফুল—বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘ওয়ান্ডার বয়’, যার প্রতিভা একসময় ছিল পুরো জাতির স্বপ্নের প্রতীক, কিন্তু সেই আলো নিভে গিয়েছিল অসময়ে, অন্ধকার ফিক্সিংয়ের জগতের সাথে মিশে।
এখন আবার সেই আশরাফুলই আলোচনায়, তবে ভিন্ন ভূমিকায়। নিজেই বলেছেন, ‘বোর্ড থেকে অ্যাপ্রোচ করা হয়েছে। তবে এখনো তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সবকিছুই আলোচনার পর্যায়ে। ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে নাকি অন্য কোনো ভূমিকায়, সেটা নিশ্চিত না।’

অর্থাৎ, বোর্ড আশরাফুলকে আদৌ চাইছে কি না—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও ঝুলে আছে। এই সিদ্ধান্তের ভার এখন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাঁধে। সদ্য বিদেশ সফর শেষে তিনি দেশে ফিরেছেন, আর তার হাত থেকেই আসবে চূড়ান্ত ঘোষণা। হজ এগিয়ে আছেন আলোচনায়, তবু বুলবুলের দেশি কোচদের প্রতি আগ্রহ আশরাফুলের সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছে। বুলবুল বলেছেন, ‘আশরাফুল প্রমিজিং কোচ।’
আশরাফুলের মতো প্রতিভাবান এক সাবেক প্রতিভাবান ব্যাটারের জন্য এই সুযোগ হতে পারে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরু। যেমন একসময় ব্যাট হাতে তিনি জাতিকে দিয়েছিলেন জয়ের স্বপ্ন, এবার হয়তো কোচের ভূমিকায় নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে পারে তার জন্য।
অন্যদিকে দলের বাস্তবতা বলছে, এই পদে কাউকে পাওয়া এখন সময়ের দাবি। বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশ দলের কোনো পূর্ণকালীন ব্যাটিং কোচ নেই। সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আপাতত সেই দায়িত্ব পালন করছেন, তবে তার কাঁধে আছে আরও বহু দায়িত্ব। ফলে ব্যাটিং নিয়ে আলাদা করে মনোযোগ দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

এখন সব চোখ বিসিবির দিকে—তারা কি নতুন ভূমিকায় ফিরিয়ে আনবে দেশি এক ব্যাটিং প্রতিভাকে, নাকি অস্ট্রেলিয়া থেকে এনে দেবে অভিজ্ঞতার ছোঁয়া? সময়ই বলবে, কার হাতে ধরা দেবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নতুন দিগন্ত—ব্র্যাড হজ, না মোহাম্মদ আশরাফুল।










