সূর্য ডুবে যাচ্ছে। অস্ত যাচ্ছে, শেষ বারের জন্য কি? নাকি এটা শুধুই ভ্রম? ভারতের নিজস্ব ‘মিস্টার ৩৬০’ নামে পরিচিত সুরিয়াকুমার যাদব। একসময় প্রতিপক্ষের জন্য ছিলেন দু:স্বপ্ন, এখন যেন নিজেই লড়ছেন নিজের ছায়ার সঙ্গে।
২০২৩ এবং ২০২৪ সালে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ছিলেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, একের পর এক জাদুকরী ইনিংসে জয় এনে দিয়েছিলেন দলকে। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই উজ্জ্বল সূর্য যেন ঢেকে গেছে মেঘে। ২০২৫ সালের শুরু থেকেই তার ব্যাটে নেমে এসেছে দীর্ঘ নীরবতা। অথচ, তিনিই এখন দলের অধিনায়ক।
এই বছরে ১২টি ম্যাচে তার রান মাত্র ১০০, গড় ১১.১১ — যা তার ক্যারিয়ারের সর্বনিম্ন। ২০২৩ সালে যেখানে তার গড় ছিল ৪৮.৮৬, ২০২৪-এও ছিল ২৬.৮১—সেখানে এই ধস অবিশ্বাস্য। তার একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংস পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৭* রানের অপরাজিত ইনিংস, বাকিগুলোতে তিনি বারবার ব্যর্থ।

বিশ্লেষণ বলছে, তার ব্যর্থতা শুরু হয়েছে ইনিংসের গোরা থেকেই। পাওয়ারপ্লেতে ২০২৩ সালে তার গড় ছিল ৮৮, কিন্তু এ বছর তা নেমে এসেছে মাত্র ৯.৬-এ। ডট বলের হার বেড়েছে, স্ট্রাইক রেট কমেছে—সব মিলিয়ে রান তোলার গতি যেন হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। ডেথ ওভারেও যেখানে একসময় তার স্ট্রাইক রেট ছিল আকাশচুম্বী, সেখানে এখন গড় ৭ রানে এসে ঠেকেছে, আর ডট বলের হার পঞ্চাশ শতাংশ ছুঁয়েছে!
যিনি একসময় ১৫০ পেরোনো স্ট্রাইক রেটে আগুন ঝরাতেন, সেই সুরিয়া এখন খেলছেন ১০৫.২৬ স্ট্রাইক রেটে। এমন ব্যাটিং ভারতের মতো দলে বড় সমস্যাই বটে, বিশেষ করে যখন তিনি ব্যাটিং অর্ডারের ৩ বা ৪ নম্বরে নামেন। দলের মাঝের ওভারে চাপ কাটানোর বদলে এখন যেন সেই চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে তার অচেনা ছন্দহীনতায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বর্তমান ফর্ম চলতে থাকে, তাহলে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে প্রতি ম্যাচে সুরিয়ার অবদান ১০–১৫ রানের বেশি হবে না, যা দলের জয়ের সম্ভাবনাকে ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে পারে। কিন্তু, যদি তিনি অন্তত ২০২৪ সালের ফর্ম ফিরিয়ে আনতে পারেন, তাহলে দলের জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে অনেকগুণ। আর যদি ২০২৩ সালের সেই প্রলয়ের নটরাজ হয়ে সুরিয়াকুমার ফিরে আসেন, তাহলে ভারতীয় ব্যাটিং আবারো পাবে তার হারানো ধার।

ভারতের গড় স্কোর যেখানে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৪৯ রান, সেখানে সুরিয়াকুমারের ফর্মই হতে পারে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মূল চাবিকাঠি। যদিও তার অধিনায়কত্বে ভারত সাম্প্রতিককালে সাফল্যের মুখ দেখেছে, কিন্তু এখন সময় এসেছে ব্যাট হাতে সামনে থেকৈ নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার।
একটা সময় তার ব্যাট থেকে প্রতিটি শট যেন ছিল শিল্প, প্রতিটি ইনিংস ছিল আগুনের খেলা। এখন সেই আগুন মৃদু হয়ে এলেও, ক্রিকেট জানে — সূর্য অস্ত যায়, কিন্তু নিভে যায় না। ভোর হওয়ার সাথে সাথেই সূর্য আবার ফিরে আসতে বাধ্য। প্রশ্ন শুধু একটাই — ‘মিস্টার ৩৬০’র সূর্যোদয় কি হবে এই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই?










