সবকিছু যখন শেষ হয়ে যায়, সব পথ যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখনই তো পাঞ্চেরী হয়ে কেউ কেউ আসেন, যেমনটা এলেন হামজা চৌধুরী। পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে পাঁচ মিনিটের ম্যাজিকে এগিয়ে নিলেন। তবুও দিনশেষে চিরায়িত অভ্যাসের কারণে জয় পাওয়া হলো না বাংলাদেশের।
ফেভারিট হয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই মর্যাদার প্রতি সুবিচার বাংলাদেশ মোটেও করতে পারেনি। উল্টো প্রথমার্ধেই পিছিয়ে যায় হামজা চৌধুরীরা। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলতে নামা বাংলাদেশ বলের দখল নিজেদের পায়েই রাখতে চেয়েছে। কিন্তু সেই বল দখলে বাংলাদেশের ফায়দা হয়নি কোনো। অ্যাটাকিং থার্ডের পরিবর্তে নিজেদের অর্ধেই সবচেয়ে বেশি পাস খেলেছেন তপু বর্মণ, তারিক কাজীরা।
ম্যাচের ২৯ মিনিটের মাথায় নেপালের সৃষ্টি করা আক্রমণ থেকে গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। গোলবারের বাম দিক থেকে বাড়ানো বলে ডি-বক্সের বেশ খানিকটা বাইরে থেকে এসে শট চালান রোহিত চাঁদ। ১-০ গোলে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। তবুও আক্রমণে ধার বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। ছন্নছাড়া খেলায় ভীষণ বিরক্ত হয়েছেন হামজা। বারবার তিনি কোচের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন।

প্রথমার্ধ শেষ হয় এমন ম্যাড়ম্যাড়ে ভাবেই। দ্বিতীয়ার্ধে তাই কিছুটা পরিবর্তন অন্তত চায়। তবে তা করবেন কে? অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে মশাল হাতে এগিয়ে এলেন হামজা। সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন, কেউ যা কখনও ভাবেনি সেটাই করলেন তিনি।
৪৬ মিনিটের মাথায় বাইসাইকেল কিক, পুরো গ্যালারির নিস্তব্ধতা ভেঙে দিল জালে জড়ানো ওই বলটা। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকলেন, এক মুহূর্তের জন্য যেন দৃষ্টিভ্রম হলো সবার। হামজার সেই অবিশ্বাস্য গোলটা উজ্জীবিত করে তুলল সবাইকে, সমতায় ফিরল বাংলাদেশ।
ওই জাদুকরী গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ডি-বক্সে নেপাল ডিফেন্ডারের ভুলে পেনাল্টি পেয়ে গেল বাংলাদেশ। তবে হামজা কোনো ভুল করলেন না। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে আরও এক গোল এগিয়ে নিলেন বাংলাদেশকে। পিছিয়ে থাকা দলটা মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্রেফ হামজা ম্যাজিকে।

তবে ৭৮ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন হামজা, আর এরপরই যেন আবারও কালো মেঘে ঢেকে যায় বাংলাদেশের আকাশ। শেষ মুহূর্তে গোল খাওয়ার অভ্যাসটা আজও অক্ষত রাখল বাংলাদেশ। জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতায় সন্তুষ্ট থাকল জামালরা। হামজা তাই তো বলতেই পারেন, তিনি আর কী করলে জিততে পারে বাংলাদেশ?











