ছিলেন একজন ওপেনার, এখন বনে গেছেন টি-টোয়েন্টির নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার। দুই বছরের ভেতরে নিজের পুরো চরিত্র বদলে ফেলছেন সাইম আইয়ুব। ব্যাট হাতে আগ্রাসী ওপেনিংয়ের সমান্তরালে, এখন বল হাতেও ছড়ি ঘোরাতে শিখে গেছেন সাইম।
তার এমন বদলে যাওয়ার পেছনে রয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দল পেশোয়ার জালমি। দলটির হয়ে বড় মঞ্চে বল করার সাহস অর্জন করেন তিনি। দলের কোচিং স্টাফ তার উপর রেখেছিল ভরসা। যদিও এর আগে থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে সাইমের ছিল বল করার অভিজ্ঞতা। নতুন একটা স্কিল যুক্ত করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা মূলত জুগিয়েছিল পেশওয়ার।
এরপর পাকিস্তান জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টও তার উপর আস্থা রেখেছিলেন। স্রেফ আস্থা রেখেই থেমে থাকেনি, বরং সাইমের বোলিং স্কিল ডেভেলপমেন্টের উপর কাজও করেছে প্রচুর। নিজের এমন বিবর্তনের জন্য তিনি তাই পেশওয়ার ফ্রাঞ্চাইজি ও পাকিস্তান জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের উপর ভীষণ কৃতজ্ঞ।

হার্দিক পান্ডিয়া, সিকান্দার রাজাদের মত পরীক্ষিত সেনানীদের পেছনে ফেলে বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার এখন সায়িম আইয়ুব। এজন্য অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে তাকেও আয়ত্ত্ব করতে হয়েছে নানামুখী বোলিং স্কিল। যেমন ডানহাতি অফস্পিনের পাশাপাশি সমানতালে তিনি ফিঙ্গার স্পিন কিংবা লেগ স্পিনও করতে জানেন।
সেটা মূলত ব্যক্তি উদ্যোগে রপ্ত করেছিলেন কোভিড মহামারীর সময়ে। অঢেল সময়কে একেবারে নষ্ট হতে দেননি সায়িম। ঠিক সে কারণেই তিনি ভীষণ কার্যকর এক স্পিনার রুপেও আবির্ভূত হয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে। এমনকি শুরুর পাওয়ার প্লে-তেও বোলিং করতে তার নেই কোন অসুবিধা। তিনি ব্যাটারদের নামের উচ্চতা দেখে বোলিং করেন না।
নিজের সামর্থ্যের উপর আস্থা রেখে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটান বাইশ গজে। যে কাজটা করে গত বছর ২১টি আন্তর্জাতিক উইকেট বাগিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। যেখানে তার ইকোনমি ছিলে স্রেফ ৬.৭৬। বর্তমান সময়ে বল হাতে এমন কৃপণ হওয়ার ভীষণ কষ্টসাধ্য কাজ। তবে কষ্ট করলেই তো কেষ্ট মেলে। সাইম আইয়ুবের ক্ষেত্রে ঘটছে তাই।












