যুবরাজের নামে, যুবরাজের পথে

৬৫ বল খেলে শেষ পর্যন্ত ১১০ রান করেন। ইনিংসে ১১ টি চারের সাথে ছিল ছয়টি ছক্কা। ব্যাট উঁচিয়ে যখন মাঠ ছাড়লেন, তখন বিশ্বের কোথাও বসে ‘অরিজিনাল’ যুবরাজ সিং নিশ্চয়ই তাঁকে দেখছিলেন আর বলছিলেন, ‘আরে এই পিচ্চিটা তো আমার মতই খেলে!’

নাম যুবরাজ, বাঁ-হাতি ব্যাটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে তিনি ধুরন্ধর হয়ে উঠবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। কে বলবে, এই ভদ্রলোকের বয়স মাত্র ১৯ বছর।

পুরো নাম যুবরাজ সিং সামরা। টি-টোয়েন্ট বিশ্বকাপের চলতি আসরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন কানাডার এই ওপেনার। বাবার কথা রাখলেন তিনি। আক্ষরিক ভাবেই তিনি ‘কপি’ করতে পারলেন খোদ যুবরাজ সিংকে।

৫৮ বলে তিনি পৌছে গেছেন তিন অংকের ম্যাজিকাল ফিগারে। পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রথম এই সেঞ্চুরি দিয়েই তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান বনে গেলেন।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে বলেছিলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে যখন বলটা ব্যাটের একদম মাঝখান থেকে বেরিয়ে যায়। বিশেষ করে স্টেডিয়ামে যখন একটা ভালো শট মারি আর সেই শব্দটা প্রতিধ্বনিত হয়—সেটা ভীষণ তৃপ্তিদায়ক। সারাদিন শুনতে পারি।’

কথাগুলো পরিচিত মনে হয়? এই দর্শনটাই তো যুবরাজ সিং তাঁর ক্যারিয়ার জুড়ে বলতে চেয়েছেন। বাবা বালজিৎ সিং সামরা যুবরাজ সিংয়ের ভক্ত। ছেলের নাম রাখেন প্রিয় ক্রিকেটারের নামে।

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো যুবরাজের সাথে একালের যুবরাজের দু’বার দেখাও হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে দেখা হয় সুপার সিক্সটি টুর্নামেন্টে।

সামরা বলেন, ‘উনি যেভাবে বল মারেন, সেটা অবিশ্বাস্য। বাবা সব সময় চান আমি যেন তাকে অনুসরণ করি। কিন্তু আমি আমার নিজের মতো হতে চাই।’

হ্যাঁ, সামরা তাঁর নিজের মতই হয়েছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুবরাজ সিংয়ের কোনো সেঞ্চুরি নেই। সেই অধরা সেঞ্চুরি পেলেন সামরা, মাত্র ১৯ বছর বয়সে। তাঁর ব্যাটিং মুগ্ধ হয়ে দেখল চেন্নাইয়ের দর্শকমহল।

৬৫ বল খেলে শেষ পর্যন্ত ১১০ রান করেন। ইনিংসে ১১ টি চারের সাথে ছিল ছয়টি ছক্কা। ব্যাট উঁচিয়ে যখন মাঠ ছাড়লেন, তখন বিশ্বের কোথাও বসে ‘অরিজিনাল’ যুবরাজ সিং নিশ্চয়ই তাঁকে দেখছিলেন আর বলছিলেন, ‘আরে এই পিচ্চিটা তো আমার মতই খেলে!’

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link