অভিষেক বিশ্বকাপে অভিষেকের বারোটা বেজে গেছে

প্রত্যাশার ভারেই কি তবে অভিষেক নুইয়ে গেলেন? নাকি শরীরটা তার সঙ্গ দিচ্ছে না! এক ভয়ংকর অমাবশ্যার অন্ধকারে হারিয়ে গেছেন মারকুটে এই ব্যাটার।

টানা তিন ডাক। অভিষেক শর্মা গড়ে ফেললেন রেকর্ড। টানা তিন ম্যাচে বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে কেউই এমন নিদারুণ বাজে রেকর্ডের পাশে নিজের নামটি লেখাননি। ভারতের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র যেন বিশ্বকাপের ভার সইতে অপারগ।

অভিষেক শর্মার অভিষেক বিশ্বকাপ। ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের ধারক ও বাহক হয়ে শুরু হয় তার বিচরণ। প্রায় ২০০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করে নিজের প্রতি প্রত্যাশাকে তুলে নিয়ে গেছেন আসমানে। কিন্তু সকল প্রত্যাশার বেলুন বিশ্বকাপে চুপসে গেল।

এতটাই খারাপ সময় যাচ্ছে তার যে হাসপাতালের বিছানা ছেড়ে উঠে আসার পর, তাকে আবার খেলতে নামানো হয়েছে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। সেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও তিনি ফিরলেন শূন্যরানে। চওড়া বুকে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক মাঠ ছাড়লেন ভীষণ আক্ষেপের ধূসর চাদরে মুখ লুকিয়ে।

প্রত্যাশার ভারেই কি তবে তিনি নুইয়ে গেলেন? নাকি শরীরটা তার সঙ্গ দিচ্ছে না! তিন ম্যাচে শূন্যরানে ফেরার পীড়া নিশ্চয়ই তাকে পুড়িয়ে ভষ্ম করছে। এক ভয়ংকর অমাবশ্যার অন্ধকারে হারিয়ে গেছেন মারকুটে এই ব্যাটার। অথচ ভারতের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রার তিনি ছিলেন নিউক্লিয়াস।

তার মারকাটারি ব্যাটিংয়ের উপরই ছিল ভারতের সকল পরিকল্পনা। কিন্তু গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচেও তিনি রানের খাতা খুলতে পারলেন না। প্রথম ম্যাচে আলী খানের শিকার হয়েছেন নিজের খেলা প্রথম বলেই। পাকিস্তানের বিপক্ষেও তার ব্যাট থমকে গেছে চার বল খেলার পরেই। এরপর আরিয়ান দত্তের তিন বলেই ইতি ঘটল অভিষেকের।

এই দুর্দশার শেষ কোথায়, তা অজানা সকলের। কিন্তু অভিষেকের আত্মবিশ্বাসের যে ১২টা বেজে গেছে- সেটা আর না বলে দিলেও চলছে। গুরু যুবরাজ সিংয়ের শরণাপন্নই হয়ত হতে চাইবেন তিনি। যুবরাজ তো পাঞ্জা লড়েছিলেন মৃত্যুর সঙ্গে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link