দম ফেলার ফুসরত নেই বাংলাদেশের! একের পর এক সিরিজ, দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ব্যস্ততম সূচিতে হাঁটতে যাচ্ছে ক্রিকেটাররা। ঘরের মাঠ হোক কিংবা প্রতিপক্ষের ডেরা, সবখানেই লড়াই, সবখানেই দিতে হবে পরীক্ষা। দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার পূর্ণ চিত্র।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাওয়া হয়নি। বাংলাদেশের জন্য তাই বছর শুরুই হচ্ছে পাকিস্তান সফর দিয়ে। মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। যা মাঠে গড়াবে ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ। সাদা বলের লড়াই শেষ হতেই মে মাসে আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ, এবার টেস্ট চ্যালেঞ্জ। ৮ থেকে ১২ মে প্রথম টেস্ট, ১৬ থেকে ২০ মে দ্বিতীয় টেস্ট।
জুনে অস্ট্রেলিয়া আসছে বাংলাদেশ সফরে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৫, ৮ ও ১১ জুন। এরপর টি-টোয়েন্টির উত্তাপ, যা হবে ১৫, ১৮ ও ২০ জুন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে এমন সিরিজ নিঃসন্দেহে বছরের বড় আকর্ষণগুলোর একটি।
সব ঠিকঠাক থাকলে সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফর। ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর মাঠে গড়াবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। উপমহাদেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা, লিটন দাসদের কাছে থাকবে বাড়তি প্রত্যাশা।

বছরের মাঝামাঝি সময়ে রয়েছে বড় বিদেশ সফরও। এপ্রিলে নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। যা হবে ১৭, ২০ ও ২৩ এপ্রিল। এরপর ২৭ ও ২৯ এপ্রিল এবং ২রা মে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। কিউই কন্ডিশনে সবসময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে বাংলাদেশের জন্য। এবার নিশ্চয় সেটা জিতে নেওয়ার চেষ্টা থাকবে বাংলাদেশের।
জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফর—দুটি টেস্ট ও তিন ওয়ানডে। এরপর জুলাই-আগস্টে আয়ারল্যান্ড সফর, যেখানে তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ। তবে বিদেশ সফরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে আগস্টে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এবার টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট প্রথম টেস্ট, ২২ থেকে ২৬ আগস্ট দ্বিতীয় টেস্ট।
অক্টোবর-নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর হবে প্রথম টেস্ট, ৫ থেকে ৯ নভেম্বর দ্বিতীয় টেস্ট। বছরের শেষভাগে লাল বলের আরেক বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য।
বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা আসবে বাংলাদেশে। যেখানে থাকছে দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে এবং তিন টি-টোয়েন্টির পূর্ণাঙ্গ এক প্যাকেজ।

সব মিলিয়ে এই বছরটা টানা ব্যস্ততায় কাটবে বাংলাদেশের। দম ফেলার সময় নেই। এক সিরিজ শেষ মানেই আরেক সিরিজের প্রস্তুতি। ২০২৬ সাল বাংলাদেশের জন্য হতে যাচ্ছে সহনশীলতা, সামর্থ্য আর সাহসের এক ম্যারাথন পরীক্ষা।











