মেহেদী মিরাজ- গা বাঁচানো অধিনায়ক

মেহেদী হাসান মিরাজ বেশ চতুর একজন বোলার। প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে পরাস্ত করতে যতটা না তিনি পটু, তার থেকেও পটু নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে। আড়ালে-আবডালে দলের ভাল সময়ে তিনি বোলিং করে যান চুপিসারে, দলের অবস্থা ভাল হলে। তাতে করে তার পরিসংখ্যান থাকে চলনসই, তাকে নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ কই!

মেহেদী হাসান মিরাজ বেশ চতুর একজন বোলার। প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে পরাস্ত করতে যতটা না তিনি পটু, তার থেকেও পটু নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে। আড়ালে-আবডালে দলের ভাল সময়ে তিনি বোলিং করে যান চুপিসারে, দলের অবস্থা ভাল হলে। তাতে করে তার পরিসংখ্যান থাকে চলনসই, তাকে নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ কই!

এতগুলো কথা তো আর এমনি এমনি বলার জন্য বলা নয়। মিরাজ যখনই একটু নেতৃত্বস্থানীয় খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন, তখন থেকেই তিনি সেই সুযোগকে ব্যবহার করছেন। এই যেমন বিসিএল ওয়ানডেতে সাউথ জোন বনাম ইস্ট জোনের ম্যাচটিতেই মিরাজ নিজের পরিসংখ্যানকে ত্রুটিমুক্ত রেখেছেন- দলকে ডুবিয়েছেন।

ঘটনাটা ইস্ট জোন যখন ম্যাচের লাগাম প্রায় নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে তখনকার। তিন উইকেটে ৯১ রান। তাদের জিততে প্রয়োজন ছিল ৮৯ রান। ওভার বাকি ২৭টি। একেবারে পানির মত সহজ ম্যাচ। কিন্তু সেই ম্যাচটাকে মুহূর্তের মধ্যে কঠিন করে দেয় স্পিনার তানভীর ইসলাম ও মিডিয়াম পেসার সৌম্য সরকার জুটি।

তিন ওভারের যুগলবন্দীতে তানভীর এক ওভারে দেন দুই রান, সৌম্য দুই ওভারে তুলে নেন দুইটি উইকেট। চোখের পলকে ছয় রানে দুই উইকেট হারিয়ে তখন স্বীকৃত শেষ ব্যাটার শাহাদাত হোসেন দিপু। সাথে সদ্যই ব্যাটিং প্রান্তে এসেছেন নাসুম আহমেদ। ঠিক ওই সময়ে বোলিংয়ে আসেন মিরাজ।

এর আগে তিনি একটানা সাত ওভার করেছেন। বগুড়ার একটু বোলার বান্ধব উইকেটের ফায়দা তুলে নিতে চেয়েছিলেন। সফল হয়েছেন একটি উইকেট প্রাপ্তিতে। তবে যখন মুমিনুল হক ও দিপুর যুগলবন্দী জমাট বাঁধতে শুরু করেছে-তখন তিনি নিজেকে গুটিয়ে দূরে রাখেন। আবার যখন তিন ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইস্ট জোন, তখন বোলিং প্রান্তে আসেন মিরাজ। সরিয়ে দেন দিনের অন্যতম সেরা বোলার তানভীরকে।

অথচ ওই সময়টায় তানভীরকে আরও কয়েক ওভার বোলিং করালে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ সাউথ জোনের পক্ষে চলে আসতে পারত। কেননা তখন অবধি তানভীরের খরচ ছিল পাঁচ ওভারে দশ রান, এক উইকেটের বিনিময়ে। তিনি আরও বেশি চাপে ফেলতে পারতেন ইস্ট জোনকে। কিন্তু মিরাজ এসে উল্টো আরও প্রতিপক্ষকে মোমেন্টাম উপহার দিয়ে দেন।

মিরাজ সেই সময় বোলিং প্রান্তে এসে ইস্ট জোনের চাপের মুহূর্তে এক রানের একটি ওভার করে গেলেন, নাসুমকেও ফেরালেন ওই স্পেলে। তবে তার আগে সৌম্য সরকার তুলে নিয়েছিলেন দিপুর উইকেট। অর্থাৎ নাসুমের মত একজন মিনি ব্যাটারের উইকেট শিকার করতে পেরেছেন। তাতে তার বোলিং ফিগারটা আর প্রশ্নবিদ্ধ হল না। তাকে নিয়ে খুব বেশি নেতিবাচক আলোচনাও এড়ানো গেল।

দিনশেষে সৃষ্ট চাপের মোমেন্টামকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচটাকে তখনই শেষ করে ফেলা যেত। কিন্তু মিরাজের কাছে দলের স্বার্থের চাইতে নিজ স্বার্থ রক্ষা করাই হয়ে পড়ে মুখ্য। সমস্যা হচ্ছে, তিনি সুযোগ পেলেই এমন কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চান জাতীয় দলের জার্সিতেও। সাহস দেখিয়ে নিজ থেকে এগিয়ে এসে মোমেন্টাম তৈরিতে তিনি বিশ্বাসী নন। সৃষ্ট মোমেন্টামের ফায়দা নিজের জন্য তুলে নিতে চান, তাতে দলের ক্ষতি হলে হোক!

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link