অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের বাতিগুলো তখনো জ্বলছে, কিন্তু দিল্লীর আকাশ যেন এক লহমায় বিষণ্ণতায় ডুবে গেল। মাত্র এক রানের দূরত্ব! ক্রিকেট ইতিহাসে এই ‘এক রান’ কোনো দলের জন্যে আনন্দের জোয়ার আনে, আবার কোনো দলের জন্য হয়ে ওঠে চরম যন্ত্রণার প্রতিশব্দ। সেই যন্ত্রণার নীল বিষেই যেন নীল হলেন ডেভিড মিলার। কিন্তু সেই হাহাকারের মাঝেও মানবিকতার এক টুকরো আলো ছড়িয়ে দিলেন দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল।
গুজরাট টাইটানসের দেওয়া ২১০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লী ক্যাপিটালস যখন ধুঁকছিল, তখন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ডেভিড মিলার। ব্যাট হাতে তিনি যেন এক রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন। মাত্র ২০ বলে ৪১ রানের সেই ক্যামিও ইনিংসটি ছিল সাহসিকতার এক অনন্য নিদর্শন। ১৯তম ওভারে মোহাম্মদ সিরাজের ওপর যখন তিনি অগ্নিরূপ ধারণ করলেন, তখন গ্যালারির উন্মাদনা ছিল আকাশচুম্বী।
অংকটা সহজ হয়ে এসেছিল – দুই বলে দুই রান। ক্রিকেটের পরিভাষায় মিলারের মতো ব্যাটারদের জন্য যা ডাল-ভাত। কিন্তু প্রসিধ কৃষ্ণার বুদ্ধিদীপ্ত স্লোয়ার বাউন্সার যেন সব সমীকরণ ওলটপালট করে দিল। জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে সিঙ্গেল নিতে অস্বীকার করা মিলার শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হলেন। মাত্র এক রানের জন্য হাতছাড়া হলো রূপকথার মতো এক জয়।

ম্যাচের শেষ অঙ্ক যখন চূড়ান্ত যন্ত্রণায় শেষ হলো, মাঠের তপ্ত ধূলিকণায় তখন কেবল এক পরাজিত নায়কের দীর্ঘশ্বাস। পরাজয়ের এমন নিষ্ঠুর গ্লানি বইতে না পেরে ডেভিড মিলার যখন স্থবির পাথরের মতো দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই ২২ গজের সীমানা ছাড়িয়ে জেগে উঠল অনন্য এক ভ্রাতৃত্ব। এগিয়ে এলেন নিজের দলেরই কাণ্ডারি অক্ষর প্যাটেল। অক্ষরের সেই গভীর আলিঙ্গন আর কাঁধে রাখা সান্ত্বনার হাতটি যেন এক অলিখিত কাব্য লিখে দিল।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা গুজরাট টাইটানস শুভমান গিল, জস বাটলার এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে ২১০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছিল। জবাবে লোকেশ রাহুলের দৃষ্টিনন্দন ৯২ এবং পাথুম নিসাঙ্কার ৪১ রান দিল্লিকে জয়ের ভিত গড়ে দিলেও রশিদ খানের ঘূর্ণি জাদুতে পথ হারায় ক্যাপিটালস।
দিনের শেষে রেকর্ড বইয়ে হয়তো গুজরাটের জয় লেখা থাকবে, কিন্তু অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম মনে রাখবে মিলারের সেই নিঃসঙ্গ লড়াই আর মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া অক্ষরের সেই মানবিক আচরণকে।












