বিসিবির তপ্ত পিচে তামিমের নতুন ইনিংস

একদা বিদ্রোহের ঝাণ্ডা হাতে রাজপথে নামা তামিম আজ নিজেই সেই সমাধানের সিংহাসনে।

​বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন এখন এক দোদুল্যমান সন্ধিক্ষণে। আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের পতনের পর ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটির ব্যাটন কাঁধে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসা দুর্নীতির কালিমা মুছে বিসিবির ললাটে গ্রহণযোগ্যতার চন্দন লেপন করাই এখন তামিমের প্রধান ব্রত। তবে মাঠের সবুজ ঘাসে রানের ফুলঝুরি ফোটানোর চেয়ে শেরেবাংলার এই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের  সমীকরণ মেলানো যে ঢের কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তামিমের এই অভিষেক মোটেও কণ্টকমুক্ত নয়। ইতোমধ্যেই সদ্য বিদায়ী সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তামিমের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিকে ‘অবৈধ’ বলে আইসিসির কাছে আবেদন জানিয়েছেন। বিসিবির এ পটপরিবর্তনের রেশ আছড়ে পড়েছে খোদ সংসদ ভবনেও। সরকারের পক্ষ থেকে একে শুদ্ধি অভিযান বলা হলেও বিরোধী শিবিরের বয়ানে এটি নিছক স্বজনপ্রীতি।

পূর্ববর্তী বোর্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ এখন এক নি:সঙ্গ দ্বীপ। আইসিসির দরবারে বাংলাদেশ এখন মিত্রহীন। পাকিস্তান ছাড়া কেউ নেই পাশে দাঁড়ানোর। এই কূটনৈতিক খরা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করাই হবে তামিমের প্রথম অ্যাসিড টেস্ট।

অন্যদিকে, ঘরোয়া ক্রিকেটেরও এখন বেহাল দশা। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের নাড়ি বলা হয় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বা ডিপিএলকে। অথচ সেই লিগ এখন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় স্থবির। ক্লাবগুলোর লিগ বয়কটের কারণে ক্রিকেটারদের রুটি-রুজি এখন বিপন্ন। একদা বিদ্রোহের ঝাণ্ডা হাতে রাজপথে নামা তামিম আজ নিজেই সেই সমাধানের সিংহাসনে।

তামিমের অ্যাড-হক কমিটির সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। পূর্বসূরিদের মতো ক্ষমতার মোহে অন্ধ না হয়ে একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক কাঠামো দাঁড় করানোই তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। অনভিজ্ঞ একঝাঁক পরিচালক নিয়ে তামিম কি পারবেন বিসিবির রুদ্ধদ্বারে স্বচ্ছতার জানালা খুলে দিতে?

ফারুক আহমেদ থেকে বুলবুল – কোনো অধিনায়কই প্রশাসক হিসেবে বিসিবির তপ্ত উইকেটে থিতু হতে পারেননি। এবার আরেক সাবেক অধিনায়ক তামিমের পালা। উইলো ছেড়ে এই প্রশাসনিক অরাজকতায় তিনি কতটা ধৈর্য আর প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে লাল-সবুজ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ লিগ্যাসি।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link