বুলবুলের পতনের বীজটা বোনা হয়েছিল কোথায়!

বাংলাদেশের মতো জায়গা, ক্রিকেট যেখানে আবেগ আর গর্বের সংমিশ্রণ, একটি জাতির হৃদস্পন্দন, সেই জায়গাটাকেই যেন ধীরে ধীরে নিঃশ্বাসহীন করে ফেলেছিল এক অদৃশ্য অচলাবস্থা। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অধ্যায় শুরু হয়েছিল আশার আলো নিয়ে, তবে শেষটা হলো হতাশা, বিতর্ক আর বিশৃঙ্খলার অন্ধকারে।

বাংলাদেশের মতো জায়গা, ক্রিকেট যেখানে আবেগ আর গর্বের সংমিশ্রণ, একটি জাতির হৃদস্পন্দন, সেই জায়গাটাকেই যেন ধীরে ধীরে নিঃশ্বাসহীন করে ফেলেছিল এক অদৃশ্য অচলাবস্থা। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অধ্যায় শুরু হয়েছিল আশার আলো নিয়ে, তবে শেষটা হলো হতাশা, বিতর্ক আর বিশৃঙ্খলার অন্ধকারে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এক ঘোষণায় ভেঙে দেওয়া হলো পুরো বোর্ড। আর সেই সঙ্গে শেষ হয়ে গেল শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা বুলবুলের লড়াইও। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পতনের বীজটা কোথায় বোনা হয়েছিল?

সবচেয়ে বড় আঘাতটা এসেছিল বিশ্বমঞ্চে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের নামটা কাটা যাওয়া, এটা ছিল এক দুঃস্বপ্ন! নিরাপত্তার আড়ালে লুকানো সেই ব্যর্থতা আসলে ছিল পরিকল্পনার অভাব, কূটনীতির দুর্বলতা আর দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।

শুধু আন্তর্জাতিক মঞ্চ নয়, দেশের ভেতরেও থেমে গিয়েছিল ক্রিকেটের চাকা। মার্চ-এপ্রিল ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট সময়, অথচ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে একটি বলও গড়ায়নি! মাঠগুলো জুড়ে শুধুই যেন হাহাকার। সেই সঙ্গে শত শত ক্রিকেটার হারিয়ে ফেলেছে তাদের আয়ের পথ।

এর মাঝেই আয়োজন করেই আরেক বিতর্ককে টেনে আনা হয় এম নাজমুল ইসলামকে ফিরিয়ে এনে। তাতেই ক্রিকেটারদের সংগঠন, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, তাদের সঙ্গে বোর্ডের দূরত্বও দিন দিন বেড়েছে। সংলাপের দরজা বন্ধ করা হয়, দাবিগুলো হয় উপেক্ষিত, অবস্থা এমন, ক্রিকেটাররা যেন নিজেদের ঘরেই হয়ে উঠেছিল পরবাসী।

আর পতনের কফিনে ঠুকে দেওয়া শেষ পেরেকটা ছিল মিডিয়ার সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক। সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, হুমকি পাল্টা জবাবে সাংবাদিকদের বয়কটের ডাক। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটটা যেন পরিণত হয়েছিল অন্ধকার এক গুহায়, যেখানে আলো নেই একটুও।

পুরাতন চেয়ারে নতুন করে বসেছেন তামিম ইকবাল, সামনে অপেক্ষা করছে বড় চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা বোধহয় অন্ধকার গুহায় আলো জ্বালানো। সেই কাজটা কি করতে পারবে নতুন কমিটি? নাকি এ অন্ধকার দূর হওয়ার নয়?

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link