মাঠে এক সময় তার আঙুল তোলা মানেই ছিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখন মাঠের বাইরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্দরমহলে সাইমন টাওফেলের নিজের ভূমিকা নিয়েই দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংশয়। আম্পায়ারিংয়ের এই কিংবদন্তিকে ঘিরে বিসিবির করিডোরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নানা গুঞ্জন। ‘ডেইলি সান’ এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে টাওফেলের প্রভাব, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং তার বহুমুখী ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার মিরপুর বিসিবি মিডিয়া সেন্টারে ম্যাচ রেফারিদের প্রশিক্ষণ সেশন শেষে টাওফেলের চোখেমুখে ছিল রহস্যময় হাসি। সাংবাদিকদের সামনে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আজ রাতেই ফিরে যাচ্ছি। আগস্টে আবার আসার ইচ্ছা আছে, তবে দেখা যাক তখন দায়িত্বে কে থাকেন।’
‘ডেইলি সান’ এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মেয়াদে টাওফেল যখন ‘আম্পায়ার এডুকেশন কনসালট্যান্ট’ হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন, তখনই বোর্ডের ভেতরে বিভক্তি তৈরি হয়েছিল।

বিসিবির নেতৃত্বে পরিবর্তনের হাওয়া লাগার পর থেকেই টাওফেল নিজের অবস্থান পোক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। জানা গেছে, তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই টাওফেল তার সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন।
টাওফেলের মূল কাজ আম্পায়ারদের প্রশিক্ষণ ও মানোন্নয়ন হলেও তিনি তার নির্ধারিত সীমানার বাইরেও ছড়ি ঘোরাচ্ছেন বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য সূত্রমতে, আম্পায়ার্স কমিটির ম্যানেজার হিসেবে একজন বিদেশি প্রার্থীকে নিয়োগ দিতেও তিনি চাপ দিয়েছেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে টাওফেল যখন বিসিবিতে যোগ দেন, তখন তার চুক্তিমূল্য ছিল আকাশচুম্বী। তিন বছরে পেয়েছেন প্রায় ৮.৩ কোটি টাকা। তবে বিসিবির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পর সেই চুক্তির মেয়াদ ও অর্থে কাঁচি চালানো হয়। বর্তমানে তার ব্যক্তিগত পারিশ্রমিক ২,৭৫,০০০ ডলার নির্ধারণ করে চুক্তির মেয়াদ দুই বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। বাকি অর্থ তার কারিগরি দলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

বিসিবির আম্পায়ারিং ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর গুরুদায়িত্ব তার কাঁধে থাকলেও, বর্তমানে তার কাজ ছাপিয়ে অতিরিক্ত প্রভাব এবং অস্বচ্ছ নিয়োগ বিতর্কই এখন টক অব দ্যা মিরপুর।











