চেক জালিয়াতির বেড়াজালে বিপিএলের মাঠের নায়ক

মাঠের সেই বীরত্বের বিপরীতে মাঠের বাইরে পাওনা টাকার দাবিতে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে এই বিপিএল সেরা স্পিনারকে।

মাঠের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন অপরাজেয়, বল হাতে ব্যাটারদের করেছেন দিশেহারা। সবশেষ বিপিএলে সিলেট টাইটান্সের জার্সিতে ১৮টি উইকেট শিকার করে দলের সেরা তো বটেই, আসরের দ্বিতীয় সেরা বোলার হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। অথচ মাঠের সেই বীরত্বের বিপরীতে মাঠের বাইরে পাওনা টাকার দাবিতে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে এই বিপিএল সেরা স্পিনারকে। এমনটাই উঠে এসেছে ‘ডেইলি সান’ এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

নাসুমের দাবি, আসর শুরুর আগে নিলামের বাইরে সরাসরি চুক্তিতে তাকে ৭০ লাখ টাকায় দলে নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তিনি এ পর্যন্ত মাত্র ২৮ লাখ টাকা পেয়েছেন। ড্রাফটের বাকি ৩৫ লাখ টাকাসহ চুক্তির সিংহভাগ অর্থ এখনো তাকে দেওয়া হয়নি।

এই স্পিনার আক্ষেপ করে বলেন, বিসিবিকে পেমেন্টের ভুল হিসাব দিয়ে বিভ্রান্ত করছে ফ্র্যাঞ্চাইজি। তাকে দেওয়া ২৮ লাখ টাকাকে তারা ‘ড্রাফট মানি’ হিসেবে দেখালেও নাসুমের দাবি, সেটি ছিল তার চুক্তির অগ্রিম বা ‘সাইনিং মানি’। মালিকপক্ষের আশ্বাসে বিশ্বাস রেখেছিলেন তিনি, কিন্তু সেই বিশ্বাসের অমর্যাদা এখন তাকে ঠেলে দিয়েছে আইনি ও আর্থিক জটিলতায়।

বকেয়া পরিশোধের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে দুটি সিকিউরিটি চেক দিলেও বারবার ব্যাংকে গিয়ে তাকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। নাসুমের বর্ণনায়, ‘ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দফায় দফায় সময় নিয়েও তারা টাকা দেয়নি। উল্টো বকেয়া পরিশোধের আগেই চেকগুলো ফেরত চাওয়া হয়েছিল। সবশেষ যখন আমি চেক জমা দিয়েছিলাম, ব্যাংক জানিয়েছে অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।’

অন্যদিকে অভিযোগের তীর বুক পেতে নিতে নারাজ সিলেট টাইটান্সের মালিক মাহিদুল ইসলাম সামি। তার মতে, ৭০ লাখ টাকার কোনো লিখিত চুক্তিই ছিল না। যা ছিল তা স্রেফ মৌখিক আলোচনা এবং পারফরম্যান্স বোনাস। সামির দাবি, নাসুম ‘বি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও ‘এ’ ক্যাটাগরির সুবিধা দাবি করছেন।

মাঠের সাফল্যের বিপরীতে একজন জাতীয় দলের খেলোয়াড়কে বকেয়া টাকার জন্য জনসমক্ষে আসতে হওয়া বিপিএলের মতো গ্ল্যামারাস টুর্নামেন্টের পেশাদারিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। তামিম ইকবাল কিংবা শাহরিয়ার নাফিসের মতো সিনিয়রদের জানিয়েও যখন সমাধান মেলেনি, তখন নাসুমের এই ‘চেক-সার্কাস’ বিপিএলের চাকচিক্যের আড়ালে থাকা এক অন্ধকার চিত্রকেই নির্দেশ করে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link