আকাশে তখনো নববর্ষের আমেজ কাটেনি। কিন্তু হলুদ সাম্রাজ্যে তখন অন্য জোয়ার। কোনো একক অর্ধশতক ছাড়াই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯২ রানের পাহাড় চড়ে বসা চেন্নাইয়ের সামনে ১৬০ রানেই দম ফুরিয়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। বাংলা বর্ষের প্রথম দিনেও গঙ্গাপাড়ের বাঙালিদের অগ্নিস্নানে পুরোনো জঞ্জাল মুছে দিতে দিলেন না আফগান স্পিন জাদুকর নূর আহমেদ।
টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে চেন্নাইয়ের শুরুটা ছিল অনেকটা ধৈর্যশীল ও কৌশলী। অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড এদিনও বড় রান পাননি, কিন্তু তাতে দমে যায়নি সিএসকে। তরুণ আয়ুশ মাহত্রে ১৭ বলে ৩৮ রানের এক বিধ্বংসী টর্নেডো ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে সাঞ্জু স্যামসন তার স্বভাবসুলভ আভিজাত্যে তিনটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৪৮ রানের এক কারুকার্যময় ইনিংস উপহার দেন।
মাঝপথে ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের ২৯ বলে ৪১ এবং শেষদিকে ছোট ছোট অবদানে সিএসকে পৌঁছে যায় ১৯২ এর শিখরে। মজার বিষয় হলো, পুরো ইনিংসেই কোনো ব্যাক্তিগত অর্ধশতক ছিল না। কেকেআর এর কার্তিক ত্যাগী ও সুনীল নারিন শেষদিকে রানের গতি কিছুটা টেনে না ধরলে স্কোরবোর্ড হয়তো ২০০ ছাড়িয়ে যেত।

১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কলকাতার শুরুটা ছিল ছন্নছাড়া। ফিন অ্যালেন ও সুনীল নারিনের উদ্বোধনী জুটি সিএসকের বোলিং তোপের মুখে শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে। অজিঙ্কা রাহানে ও অংক্রিশ রঘুবংশী হাফ সেঞ্চুরির জুটি গড়ে কিছুটা স্বপ্ন দেখালেও তা ছিল বালির বাঁধ। মাঝপথে বল হাতে নূরের আগমন ঘটতেই বদলে যায় দৃশ্যপট।
নূর আহমদের মায়াবী ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন রাহানে। পরের বলেই ক্যামেরন গ্রিনকে শূন্য হাতে বিদায় করে তিনি কেকেআর এর ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। এরপর রিঙ্কু সিংকেও থিতু হতে দেননি এই বাঁহাতি স্পিনার। নূরের ২১ রানে তিন উইকেটের স্পেলই মূলত ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেয়। ৩২ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চেন্নাই।
পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে কেকেআর যখন মাঠ ছাড়ছে, তখন নূর আহমেদের সেই মায়াবী ঘূর্ণি যেন রাতের আকাশের নক্ষত্র হয়ে ভাসছে চিপকের আকাশে। টানা দুই জয় নিয়ে চেন্নাই যেন নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে।












