২২ গজে ব্যাটের সেই পরিচিত দাপট নেই, নেই টাইমিংয়ের সেই পুরনো জাদু। পাঁচ ম্যাচে মাত্র ৬৩ রান – পরিসংখ্যানটা যেন চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াডের নামের পাশে বড্ড বেমানান। যখন চারদিকে তার ফর্ম নিয়ে সমালোচনার গুঞ্জন, ঠিক তখনই নিজের নেতৃত্বের মুকুটে সাফল্যের পালক যোগ করে সেই সব আলোচনাকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন রুতুরাজ। কেকেআরকে ৩২ রানে ধসিয়ে টানা দুই জয় নিয়ে জয়ের ধারায় ফিরল গায়কোয়াডের দল।
ম্যাচ শেষে রুতুরাজের কণ্ঠে ঝরে পড়ল সেই চিরাচরিত লড়াইয়ের সুর। নিজের রানখরা নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং করার সময় ফর্মের চিন্তাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। এটা কিছুটা হলেও আমাকে চাপে ফেলেছিল।’
তবে ব্যক্তিগত ব্যর্থতাকে ছাপিয়ে দলের জয়কেই বড় করে দেখছেন এই তরুণ অধিনায়ক। গত ম্যাচের জয়ের পর থেকে কিছুটা নির্ভার অনুভব করা রুতুরাজ মনে করেন, বড় কোনো ইনিংস এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তার ভাষায়, ‘একটি বড় ইনিংস খুব কাছেই আছে। দলের অন্য ছেলেরা যখন আমার অভাবটা পুষিয়ে দিচ্ছে, তখন আমার কাজ হলো পরিস্থিতি অনুযায়ী দলকে এগিয়ে নেওয়া।’
ম্যাচের শুরুতে সিএসকের লক্ষ্য ২২০ রানের পাহাড় ছোঁয়া থাকলেও, পরিবর্তিত পিচ কন্ডিশনে ১৯২ রানকেই জয়ের জন্য যথেষ্ট মনে করেছিলেন অধিনায়ক। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়েছেন বোলাররা। বিশেষ করে নূর আহমদের স্পিন বিষে কেকেআর এর ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। শিশির আর আর্দ্রতাকে জয় করে নূরের এই লড়াকু পারফরম্যান্সই মূলত জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
চেন্নাইয়ের এই জয়ে রুতুরাজ গায়কোয়াডের ব্যক্তিগত রানখরা হয়তো ক্ষণিকের জন্য আড়ালে ঢাকা পড়েছে, কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা বড্ড ধূসর। দল জিতছে ঠিকই, কিন্তু সিএসকে সমর্থকদের চোখে এখনো তৃষ্ণার্ত হাহাকার – কবে দেখা মিলবে সেই চেনা রুতুরাজের?












